আন্তর্জাতিকরিয়েল এস্টেট ও সম্পদবিষয়ক পরামর্শকপ্রতিষ্ঠান Knight Frank-এর এক পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বিলিয়নিয়ারদের সংখ্যা ও তাদের মোটসম্পদের পরিমাণ উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেতে পারে।
Visual Capitalist ওয়েবসাইটেচলতি ২০২৬ সাল থেকে আগামী ২০৩১ সাল পর্যন্ত বৈশ্বিক পর্যায়ে বিলিয়নিয়ারদের সম্ভাব্য সম্পদ বৃদ্ধির একটি তুলনামূলক চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। এইপ্রতিবেদনঅনুযায়ী, শতকরা হারের হিসেবে সৌদি আরবের বিলিয়নিয়ারদের সম্পদ সর্বোচ্চ হারে বৃদ্ধি পেতে পারে।
দেশটিরবিলিয়নিয়ার সম্পদের পরিমাণ আগামী ২০৩১ সালে প্রায় ১৮৩ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধি পেতে পারে৷ এছাড়া, সৌদি আরবে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা চলতি ২০২৬ সালে ২৩ জন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ২০৩১ সালে ৬৫ জনে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
বিশ্বব্যাপীবিলিয়নিয়ার বৃদ্ধির পূর্বাভাস অনুযায়ী এই তালিকায় সৌদি আরবের পর ২য় স্থানে পোল্যান্ড (১২৩%), তৃতীয় স্থানে সুইডেন (৮১%), ৪র্থ স্থানে অস্ট্রেলিয়া (৭৭%) এবং ৫ম স্থানে ডেনমার্ক (৭৫%) রয়েছে।
বিলিয়নিয়ারসম্পদ বৃদ্ধির এই পূর্বাভাস অনুযায়ী, ৬ষ্ঠ স্থানে জাপান (৬৫%), ৭ম স্থানে মেক্সিকো (৬৩%), ৮ম স্থানে ফিলিপাইনস (৬৩%), ৯ম স্থানে নরওয়ে (৫৩%) এবং ১০ম স্থানে ভারত (৫১%) রয়েছে।
এছাড়া, ভারতের বিলিয়নিয়ার সম্পদের পরিমাণ আগামী ২০৩১ সালে প্রায় ৫১ শতাংশ বৃদ্ধি দেখানো হলেও দেশটির বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা চলতি ২০২৬ সালে ২০৭ জন থেকে বৃদ্ধি পেয়ে আগামী ২০৩১ সালে ৩১৩ জনে উন্নীত হতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
আরসংস্থাটির পূর্বাভাস অনুযায়ী একক কোনো দেশ হিসেবে ভারতে বিলিয়নিয়ারের সংখ্যা সারাবিশ্বে সর্বোচ্চ সংখ্যক বৃদ্ধি পেতে পারে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রযুক্তি, শিল্পায়ন, অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক বহুমুখীকরণের মতো বিভিন্ন কারণে অদূর ভবিষ্যতে অতিধনীদের সম্পদ বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখতে পারে।
পরিশেষেবলা যায়, আগামী ২০৩১ সালে বৈশ্বিক পর্যায়ে অতিধনী বা বিলিয়নিয়ার বৃদ্ধির পূর্বাভাস অবশ্য ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক প্রবণতার ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়, যা বাস্তবে দেশগুলোর সার্বিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাজারের ওঠানামা এবং বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে পরিবর্তিত হতে পারে।
সূত্র: Knight Frank (Wealth Report Projection), Visual Capitalist
লেখক: সিরাজুর রহমান, শিক্ষক ও লেখক।