চলমান ইউক্রেন যুদ্ধ ও মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যেও বিশ্বের প্রভাবশালী দেশগুলোর বৈদেশিক বাণিজ্য ইতিবাচকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশেষ করে বৈশ্বিক জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইনে অস্থিরতা থাকা সত্ত্বেও চীন, আমেরিকা, ভিয়েতনাম ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর পণ্য রপ্তানি আয়ে ইতিবাচক ধারা অব্যাহত ছিল।
চলতি ২০২৬ সালের জুলাই মাসে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যে শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে। চীনের জেনারেল কাস্টমস অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের সম্প্রতি প্রকাশিত আপডেট তথ্য অনুযায়ী, গত জুলাই মাসে দেশটির মোট বৈদেশিক আমদানি-রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৬৯০.৮৫ বিলিয়ন ডলার (৪.৬৬ ট্রিলিয়ন ইউয়ান)।
আর চলতি ২০২৬ সালের টানা ৫ মাসে চীনের বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ৪ ট্রিলিয়ন ইউয়ানের বেশি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হয়েছে, যা গত ২০২৫ সালের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ১৯.২% বেশি ছিল। আবার একই সময়ে চীনের মোট রপ্তানি বৃদ্ধি পেয়েছে ১৭.৮% এবং মোট আমদানি বৃদ্ধি পেয়েছে ২১.২%।
গত ২০২৫ সালে চীনের মোট বৈদেশিক বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৬.৩৫ ট্রিলিয়ন ডলার। একই সময়ে দেশটি বিশ্ববাজারে শুধু পণ্য রপ্তানি করে ৩.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার এবং পণ্য আমদানি করে ২.৫৮ ট্রিলিয়ন ডলার। যা বৈদেশিক বাণিজ্যের বিবেচনায় বিশ্বের একক কোনো দেশ হিসেবে প্রথম স্থানে রয়েছে চীন।
গত ২০২৫ সালের বিশ্বের শীর্ষ ৫টি পণ্য রপ্তানিকারক দেশের মধ্যে চীন ৩.৭৭ ট্রিলিয়ন ডলার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ২.১৯ ট্রিলিয়ন ডলার, জার্মানি প্রায় ১.৭৬ ট্রিলিয়ন ডলার, নেদারল্যান্ডস প্রায় ৯৮৯.২ বিলিয়ন ডলার, জাপান প্রায় ৭৩৮.৩ বিলিয়ন ডলার, তুরস্ক প্রায় ২৭৩.৪ বিলিয়ন ডলার, ইরান ১১৩.২ বিলিয়ন ডলার এবং দক্ষিণ কোরিয়া প্রায় ৭০৯.৭ বিলিয়ন ডলারের পণ্য সারাবিশ্বে রপ্তানি করে।
এদিকে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম অর্থনৈতিক শক্তি হিসেবে ভারতের মোট পণ্য রপ্তানি আয় হয়েছে প্রায় ৪৪১.৮ বিলিয়ন ডলার। তবে বাস্তবে ভারতের শুধু মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ভিয়েতনাম কিংবা দক্ষিণ কোরিয়া অপেক্ষা অনেকটাই কম ছিল। গত ২০২৫ সালের শুধু পণ্য রপ্তানির হিসেব অনুযায়ী ভিয়েতনাম প্রায় ৪৭৫.০৪ বিলিয়ন ডলারের পণ্য সারা বিশ্বে রপ্তানি করে।
দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের মধ্যে বাংলাদেশ গত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রায় ৪৮ বিলিয়ন ডলারের পণ্য রপ্তানি করে। আর ২০২৫–২৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের মোট পণ্য রপ্তানির পরিমাণ ছিল প্রায় ৩০.১৩ বিলিয়ন ডলার, যা ২০২৪–২৫ অর্থবছরের প্রায় ৩২.০৪ বিলিয়ন ডলারের তুলনায় ৫.৯৭% হ্রাস পেয়েছে।
পরিশেষে বলা যায় যে, বৈশ্বিক পর্যায়ে পণ্য রপ্তানিতে চীন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও জার্মানি শীর্ষে থাকলেও, এশিয়ার উদীয়মান অর্থনীতিগুলোর মধ্যে দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনাম পণ্য রপ্তানির ক্ষেত্রে ভারতের চেয়ে অনেক এগিয়ে রয়েছে। আর দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি আয় ধীরে ধীরে বৃদ্ধি পেলেও, পাকিস্তানের রপ্তানি হ্রাস পাওয়া উদ্বেগজনক হিসেবে রয়েছে।
লেখক: সিরাজুর রহমান
শিক্ষক ও লেখক, বাংলাদেশ।
ডিবিসি/আরএসএল