আসন্ন নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রবাসী ভোটারদের জন্য পাঠানো পোস্টাল ব্যালট পেপারের নকশা ও বিন্যাস নিয়ে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির দাবি, ব্যালট পেপারের প্রতীক বিন্যাসে বিএনপির দলীয় প্রতীক 'ধানের শীষ' ভাঁজের আড়ালে ঢাকা পড়ে যায় এবং এটা করা হয়েছে উদ্দেশ্যমূলকভাবে।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত নির্বাচন ভবনে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এএমএম নাসির উদ্দিনের সঙ্গে বৈঠক করে বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান এসব অভিযোগ তুলে ধরেন। এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ এবং নির্বাচন কমিশনের সাবেক সচিব ড. মোহাম্মদ জকরিয়া।
নজরুল ইসলাম খান অভিযোগ করেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবস্থানরত প্রবাসী ভাই-বোনেদের জন্য যে পোস্টাল ব্যালট পাঠানো হয়েছে, তার বিন্যাসটি এমনভাবে করা হয়েছে যা দেখে মনে হতে পারে এটি উদ্দেশ্যমূলক। তিনি বলেন, ব্যালট পেপারের প্রথম সারিতে দেশের কয়েকটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নাম ও প্রতীক স্থান পেয়েছে। অথচ বিএনপির নাম ও প্রতীক রাখা হয়েছে ঠিক মাঝখানের সারিতে। ফলে ব্যালট পেপারটি ভাঁজ করলে ধানের শীষ প্রতীকটি ভোটারদের নজরেই পড়বে না বা ভাঁজের আড়ালে চলে যাবে।
ইসির সঙ্গে আলোচনার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, আমরা বিষয়টি নিয়ে কমিশনের সঙ্গে কথা বলেছি। তাদের বক্তব্যে মনে হয়েছে, তারা কেবল প্রার্থীদের নামের আদ্যক্ষর বা অ্যালফাবেটিক্যাল ক্রম ঠিক আছে কি না, সেটাই দেখেছেন। কিন্তু ব্যালটের লেআউট বা ভাঁজের বিষয়টি তারা খেয়াল করেননি।
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা কারিগরি ত্রুটির বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেন, ব্যালট পেপারে ৫টি কলাম এবং ১৪টি সারির (লাইন) মাধ্যমে বিন্যাস করা হয়েছে। এর ফলে তিনটি বিশেষ রাজনৈতিক দল সুবিধাজনকভাবে প্রথম লাইনে চলে এসেছে। যদি ৫টি কলামের বদলে ৪টি বা ৬টি কলাম করা হতো, অথবা ১৪টি লাইনের পরিবর্তে ১২টি বা ১৬টি লাইন করা হতো, তবে এই বৈষম্যমূলক পরিস্থিতি তৈরি হতো না এবং ধানের শীষ আড়ালে পড়ার সুযোগ থাকত না।
সময় ও সুযোগ থাকলে বিদেশে পাঠানো ত্রুটিপূর্ণ পোস্টাল ব্যালট পেপার সংশোধন করে পুনরায় পাঠানোর অনুরোধ জানিয়েছে বিএনপি। নজরুল ইসলাম খান প্রবাসে ব্যালট বিতরণের অনিয়ম তুলে ধরে বলেন, পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পোস্টাল ব্যালট বিতরণের পদ্ধতি সঠিক হচ্ছে না। আমরা বাহরাইনের একটি ঘটনার নমুনা দেখেছি, যেখানে একটি বিশেষ রাজনৈতিক দলের নেতারা ব্যালট পেপার নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছেন এবং হ্যান্ডেল করছেন। এই অনিয়মের ভিডিও ইতিমধ্যে সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।
দ্বৈত নাগরিকত্ব ইস্যুতে রিটার্নিং কর্মকর্তা ও ইসির আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত নিয়ে তিনি বলেন, সংবিধান অনুযায়ী কেউ যদি বিদেশি নাগরিকত্ব ত্যাগ করেন, তবে তার নির্বাচনে অংশ নিতে কোনো বাধা থাকার কথা নয়। এছাড়া বিগত সরকারের আমলে রাজনৈতিক মামলার কারণে যারা বিদেশে অবস্থান করতে বাধ্য হয়েছিলেন, তাদের নির্বাচনের বাইরে রাখা উচিত নয়।
তিনি আরও যোগ করেন, শুধু আমাদের দল নয়, অন্য দলের প্রার্থীদেরও দ্বৈত নাগরিকত্ব নিয়ে সমস্যা সৃষ্টি করা হচ্ছে। আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু জায়গায় নির্বাচনী কর্মকর্তারা প্রার্থীদের প্রার্থিতা অবৈধ ঘোষণা করছেন এবং আপিল শুনানিতেও অনেকের প্রার্থিতা বাতিল করা হচ্ছে, যা সংবিধানে বর্ণিত অধিকারের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে বিএনপির অবস্থান পরিষ্কার করে নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বের হলেই জনসমাগম হয়, তাই তিনি কোথাও যাচ্ছেন না। অথচ অন্য অনেক দলের প্রার্থীরা জনসমাগম করে ভোট চাইছেন। এমনকি বিভিন্ন দলের শীর্ষ নেতারাও নির্বাচনি আচরণবিধি ভঙ্গ করছেন।
তিনি নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানান, যারা আচরণবিধি লঙ্ঘন করছেন, তাদের বিরুদ্ধে যেন কঠোর ও দৃশ্যমান ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
ডিবিসি/এএমটি