আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেই ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইজ ইনাসিও লুলা দা সিলভাকে চোর বলে অপমান করেছেন। এই ঘটনার কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছে ব্রাজিল। ক্ষুব্ধ হয়ে তারা আর্জেন্টিনা থেকে নিজেদের রাষ্ট্রদূতকে প্রত্যাহার করে নিয়েছে।
সম্প্রতি ব্রাজিলের সাও পাওলো শহরে একটি নির্বাচনী প্রচারণায় যোগ দেন আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট মিলেই। আগামী অক্টোবরে ব্রাজিলে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। সেখানে লুলার বিরুদ্ধে লড়বেন ফ্লাভিও বলসোনারো। ফ্লাভিওর ওই নির্বাচনী প্রচারণাতেই মিলেই লুলার নাম না নিয়ে তাকে চোর ও অপরাধী বলে তীব্র সমালোচনা করেন।
ফ্লাভিও হলেন ব্রাজিলের কারাবন্দী সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বলসোনারোর ছেলে। ২০২২ সালের নির্বাচনে লুলার কাছে হেরে ক্ষমতা ধরে রাখতে একটি অভ্যুত্থানের চেষ্টা করেছিলেন জাইর বলসোনারো। এই অপরাধে তাকে ২৭ বছরের বেশি কারাদণ্ড দেওয়া হয়। বর্তমানে গৃহবন্দী থাকায় তিনি নির্বাচনে দাঁড়াতে পারবেন না। তাই তিনি প্রেসিডেন্ট পদে নিজের ছেলে ফ্লাভিওকে সমর্থন দিচ্ছেন।
শনিবার সাও পাওলোর ওই সমাবেশে মিলেই বলেন, একমাত্র ফ্লাভিওই পারেন লুলাকে আটকাতে। শুধু তাই নয়, ব্রাজিলের সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি আলেক্সান্ডার ডি মোরাইসকেও তিনি টাকমাথা আবর্জনা বলে অপমান করেন। মূলত এই বিচারপতিই জাইর বলসোনারোর বিচার করেছিলেন এবং সম্প্রতি গৃহবন্দী বলসোনারোর সঙ্গে মিলেইকে দেখা করার অনুমতি দেননি।
মিলেইয়ের এমন বক্তব্যে ব্রাজিলের কূটনীতিকরা তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেছেন, মিলেই ব্রাজিলের সরকার, জনগণ ও গণতন্ত্রকে অপমান করেছেন। এর জবাবে ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুলা সরাসরি মিলেইয়ের নাম না নিলেও বলেছেন, ‘যাদের অধিকার নেই, তাদের নাক গলানো আমরা ব্রাজিলে সহ্য করি না।’
এই ঘটনার পর প্রতিবেশী এই দুই দেশের সম্পর্কে চরম অবনতি দেখা দিয়েছে। অথচ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা একে অপরের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার। জরিপ অনুযায়ী, আগামী নির্বাচনে প্রবীণ নেতা লুলা এখনো এগিয়ে আছেন, তবে ১০ শতাংশের বেশি ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি তারা কাকে ভোট দেবেন।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/এমএনকে