রাজনীতি

ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর কাছে ফেসবুক পোস্টে দুঃখ প্রকাশ করলেন হাসনাত আবদুল্লাহ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জাতীয় সংসদে দেওয়া নিজের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মানুষের সঙ্গে সৃষ্ট ভুল-বোঝাবুঝির অবসান ঘটাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পোস্ট দিয়ে দুঃখ প্রকাশ করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য হাসনাত আবদুল্লাহ। শনিবার (২৯ আগস্ট) দেওয়া ওই দীর্ঘ পোস্টে তিনি তাঁর বক্তব্যের বিস্তারিত ব্যাখ্যা তুলে ধরার পাশাপাশি একটি তথ্যগত ভুলের দায় স্বীকার করে নেন।

হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর পোস্টে জানান, সংসদে তিনি মূলত আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর জবাবদিহি চেয়েছিলেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গান-বাজনা ও সিনেমা একপ্রকার নিষিদ্ধ বলে যে মন্তব্য করেছেন, তার সমালোচনা করে হাসনাত বলেন, এর মাধ্যমে মন্ত্রী নিজ মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতার দায় স্থানীয়দের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন এবং আলেম-ওলামাদের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

 

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় পুলিশ লাইন্সের কনসার্ট বন্ধের ঘটনার প্রকৃত চিত্র তুলে ধরে এই সংসদ সদস্য দাবি করেন, গণমাধ্যমে বিষয়টি ভুলভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। মূলত গভীর রাতে উচ্চ শব্দের কারণে মাদ্রাসার পরীক্ষার্থীদের পড়াশোনায় ব্যাঘাত ঘটছিল বলে তারা কেবল সাউন্ড কমানোর অনুরোধ করতে গিয়েছিল। তারা কনসার্ট বন্ধ করে দেয়নি। অথচ এ নিয়ে কথা-কাটাকাটির একপর্যায়ে পুলিশের লাঠিপেটায় উল্টো কয়েকজন শিক্ষার্থী আহত হন। তাই এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সাংস্কৃতিক কার্যক্রম নিষিদ্ধ এমনটা বলা অনুচিত।

 

এ ছাড়া সংসদে নৌকাবাইচের স্থান উল্লেখ করতে গিয়ে সিলেটের পরিবর্তে ভুল করে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাম বলেছিলেন বলে স্বীকার করেন হাসনাত আবদুল্লাহ। অনিচ্ছাকৃত এই তথ্যগত ভুলের কারণে যে পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার জন্য তিনি বিব্রতবোধ করছেন এবং আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছেন। তিনি জানান, সংসদে সম্পূরক প্রশ্নের সময়সীমা অত্যন্ত সীমিত থাকায় মূল ঘটনার প্রেক্ষাপট বিস্তারিতভাবে তুলে ধরার সুযোগ তাঁর ছিল না।

 

সবশেষে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের আদর্শের কথা স্মরণ করিয়ে দিয়ে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, তাঁরা এমন একটি সর্বজনীন বাংলাদেশ গড়তে চান, যেখানে ধর্ম-বর্ণ-মত নির্বিশেষে সবার অধিকার সুরক্ষিত থাকবে এবং কেউ নিজের মত অন্যের ওপর চাপিয়ে দিতে পারবে না। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, বাংলাদেশে মসজিদ, মন্দির, মাজার, ওয়াজ, মাহফিল, রথযাত্রা, কনসার্ট বা সিনেমা উৎসব সবকিছুরই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান থাকবে। যার যেটি পছন্দ সে সেখানে যাবে। এই নিরাপত্তা ও অন্যের অধিকার যেন ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা সরকারের দায়িত্ব। সরকার এতে ব্যর্থ হলেই জননিরাপত্তা ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটে।

 

ডিবিসি/পিআরএএন

আরও পড়ুন