জেলার সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ১০ কেজি গাঁজাসহ প্রাইভেটকার ফেলে পালাল ১৫ মামলার আসামি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়ায় পুলিশের নিয়মিত চেকপোস্টে তল্লাশির সময় প্রাইভেটকার ফেলে ১৫ মামলার এক চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। পরে ওই গাড়ি থেকে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করে পুলিশ। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং পুলিশের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ৩টার দিকে আখাউড়া উপজেলার আখাউড়া উত্তর ইউনিয়নের রামধননগর রেলক্রসিং থেকে প্রায় ৫০ গজ উত্তরে আখাউড়া বাইপাস-সিংগারবিলগামী পাকা সড়কে এই ঘটনা ঘটে।

 

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রোববার দুপুরের পর আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদের নেতৃত্বে মাদকবিরোধী চেকপোস্ট বসানো হয়। এ সময় আখাউড়া থানার এসআই আব্দুল্লাহ আল মামুন, এসআই মো. আলী রেজা মামুন ও এএসআই মো. বিল্লাল হোসেনসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

 

ঘটনার বিবরণ দিয়ে আখাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত তদন্ত কর্মকর্তা তানভীর আহমেদ জানান, দুপুরের পর মাদকবিরোধী চেকপোস্টে একটি সন্দেহজনক প্রাইভেটকার থামিয়ে চালককে গাড়ির পেছনের ডালা খুলতে বলা হয়। এ সময় চালক গাড়ি থেকে নেমে ডালার কাছে এসে হঠাৎ করেই দৌড়ে পালানোর চেষ্টা করেন। পুলিশ সদস্যরা তার পিছু নিয়ে প্রায় আধা কিলোমিটার দৌঁড়ালেও তাকে আটক করতে ব্যর্থ হন। পরবর্তীতে তার ফেলে যাওয়া প্রোবক্স মডেলের টয়োটা প্রাইভেটকারটিতে তল্লাশি চালিয়ে ১০ কেজি গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

 

বিআরটিএ’র তথ্য অনুযায়ী জব্দকৃত গাড়ির মালিক ও পলাতক মাদক ব্যবসায়ীর পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে। তিনি হলেন বিজয়নগর উপজেলার সিংগারবিল ইউনিয়নের কাশিনগর গ্রামের মো. জজ মিয়ার ছেলে মো. জহিরুল ইসলাম (৩৫)। পুলিশ জানায়, জহিরুল একজন চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী এবং তার বিরুদ্ধে দেশের বিভিন্ন থানায় পূর্বে ১৫টি মামলা রয়েছে।

 

এ ঘটনায় পলাতক জহিরুল ইসলামকে আসামি করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। তাকে গ্রেফতারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

 

এদিকে, পুলিশের চেকপোস্টের সামনে থেকে একজন শীর্ষ মাদক ব্যবসায়ীর এভাবে পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় স্থানীয়ভাবে বিভিন্ন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যদের পেশাগত দক্ষতা, গাফিলতি কিংবা এর পেছনে অন্য কোনো সম্পৃক্ততা আছে কি না তা নিয়ে জনমনে আলোচনা শুরু হয়েছে।

 

মাদকমুক্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া চাই সংগঠনের সভাপতি মো. মাহফুজুর রহমান পুষ্প এ বিষয়ে বলেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সর্বস্তরে মাদক ভয়াবহভাবে ছড়িয়ে পড়ছে। এমন একটি পরিস্থিতিতে প্রশিক্ষিত একটি বাহিনীর সদস্যদের সামনে থেকে চিহ্নিত একজন মাদক ব্যবসায়ী এভাবে পালিয়ে যাবেন, তা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এ ঘটনায় পুলিশ সদস্যদের কোনো ধরনের গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা রয়েছে কি না, তা গভীরভাবে খতিয়ে দেখা দরকার।’

 

এ বিষয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) মো. ওবায়দুর রহমান বলেন, ‘পুলিশের তল্লাশিকালে এক মাদক ব্যবসায়ী পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় পুলিশের কারও কোনো গাফিলতি বা সম্পৃক্ততা আছে কি না, তা নিরপেক্ষভাবে খতিয়ে দেখা হবে।’

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন