উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার মেদির হাওরে প্রায় সাড়ে তিনশ হেক্টর জমির বোরো ধান তলিয়ে গেছে। এতে বছরে একমাত্র বোরো ফসল হারিয়ে বিপাকে পড়েছেন অন্তত দুই হাজার কৃষক পরিবার। শনিবার (৯ মে) দুপুরে ক্ষতিগ্রস্ত মেদির হাওর পরিদর্শন করেন কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং সরকারের পক্ষ থেকে আর্থিকসহ সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেন।
পরিদর্শনকালে পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া পাকা ধানের ক্ষেত দেখতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান স্থানীয় কৃষক আহাদ মিয়া। পরে তার পরিবারের সদস্য ও মেদির হাওরের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের হাতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে অনুদানের চেক তুলে দেন কৃষিমন্ত্রী। হাওরাঞ্চলের মানুষের জীবিকার প্রধান অবলম্বন বছরে একমাত্র বোরো ফসল। কিন্তু সুনামগঞ্জ থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টিতে কৃষকদের কষ্টার্জিত সোনালি ধান আগাম পানিতে তলিয়ে যায়। পরে অনেক কৃষক উচ্চ মজুরিতে শ্রমিক নিয়োগ করে পানির নিচ থেকে ধান কেটে আনলেও, কালবৈশাখী ঝড় ও বৃষ্টির কারণে সেগুলো শুকাতে পারেননি। ফলে অনেক ধানে চারা গজিয়ে গেছে।
ধারদেনা করে চাষাবাদ করা প্রান্তিক কৃষকেরা এখন চরম অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন। স্থানীয় কৃষি বিভাগ জানিয়েছে, নাসিরনগরের হাওরাঞ্চলে ২ হাজার ২০০ বিঘার বেশি জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রাথমিকভাবে প্রায় ১৩ কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
পরিদর্শনকালে কৃষিমন্ত্রী বলেন, দেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে কৃষির সঙ্গে সম্পৃক্ত। কৃষক বাঁচলে দেশ বাঁচবে, কৃষকের অর্থনীতি শক্তিশালী হলে দেশও শক্তিশালী হবে। কৃষকদের ঋণমুক্ত করা এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করে তোলাই সরকারের মূল লক্ষ্য। কৃষকদের ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ভবিষ্যতে ইউনিয়ন পর্যায়ে মাইকিং করে সরাসরি কৃষকদের কাছ থেকে ধান কেনার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি। বর্তমানে জেলা পর্যায়ে কৃষকদের কাছ থেকে ধান সংগ্রহ করা হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
এ সময় কিশোরগঞ্জের অল ওয়েদার সড়ক প্রসঙ্গে কৃষিমন্ত্রী বলেন, সড়কটি পানি প্রবাহে কোনো বাধা সৃষ্টি করছে কি না, তা খতিয়ে দেখতে উচ্চ পর্যায়ের একটি কমিটি কাজ করছে।
এদিকে বৃষ্টি কমে যাওয়ায় মেদির হাওরসহ বিভিন্ন হাওরের পানি কিছুটা নেমেছে। এতে কিছু জমি দৃশ্যমান হওয়ায় কৃষকদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তবে এখনও অধিকাংশ জমি পানির নিচে থাকায় ব্যাপক ক্ষতির আশঙ্কা রয়েছে। চলতি মৌসুমে নাসিরনগরে ১১ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো আবাদ করা হয়। কৃষি বিভাগের হিসাবে ৩০৫ হেক্টর জমির ফসল ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে কৃষকদের দাবি, প্রকৃত ক্ষতির পরিমাণ সরকারি হিসাবের চেয়ে আরও বেশি।
ডিবিসি/পিআরএএন