জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এ কল পেয়ে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার ধরন্তী এলাকা থেকে লুণ্ঠিত ৩১টি গরু বোঝাই একটি ট্রাক উদ্ধার করেছে পুলিশ। একই সঙ্গে ডাকাত দলের ব্যবহৃত একটি মিনি পিকআপ জব্দ এবং জিম্মি থাকা ট্রাকের হেলপারকে উদ্ধার করা হয়েছে। তবে অভিযানের সময় রাতের অন্ধকারের সুযোগ নিয়ে ডাকাত দলের সদস্যরা পালিয়ে যেতে সক্ষম হয়।
শনিবার (১১ জুলাই) দিবাগত রাত আনুমানিক পৌনে ১টার দিকে সিলেটের জৈন্তাপুর থেকে নরসিংদীগামী ওই গরুর ট্রাকটি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজয়নগর উপজেলার চান্দুরা ইউনিয়নের শ্যামলীঘাট এলাকায় ডাকাতদের কবলে পড়ে। ডাকাতরা ট্রাকের চালক ও গরুর মালিককে হাত-পা বেঁধে রাস্তার পাশে ফেলে রেখে ট্রাকটি ছিনিয়ে নেয় এবং হেলপারকে জিম্মি করে নিজেদের সঙ্গে নিয়ে যায়। পরবর্তীতে ৯৯৯-এর মাধ্যমে বিজয়নগর থানা পুলিশ বিষয়টি জানতে পারে।
খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে বিজয়নগর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ বেতার বার্তার মাধ্যমে আশপাশের থানাগুলোকে সতর্ক করেন। একই সঙ্গে পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) রাজিব চন্দ্র সরকার ও এসআই মাহবুবসহ পুলিশের একটি দল নিয়ে লুণ্ঠিত ট্রাকটির পিছু নেন তিনি। অন্যদিকে, সরাইল থানা পুলিশের একটি টহল দল ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে চেকপোস্ট বসিয়ে তল্লাশি শুরু করে। এ সময় সিলেট থেকে ঢাকাগামী একটি যাত্রীবাহী বাসের যাত্রীদের চিৎকারে পুলিশ নিশ্চিত হয় যে লুণ্ঠিত ট্রাকটি ওই পথেই যাচ্ছে। পুলিশ ট্রাকটি শনাক্ত করে ধাওয়া দিলে ডাকাতরা কুট্টাপাড়া হয়ে নাসিরনগর সড়কের দিকে পালানোর চেষ্টা করে। শেষ পর্যন্ত সরাইল উপজেলার ধরন্তী ব্রিজের দক্ষিণ পাশে পুলিশ ট্রাকটির গতিরোধ করতে সক্ষম হয়।
পুলিশের উপস্থিতি টের পেয়ে ডাকাতরা ট্রাক, একটি রেজিস্ট্রেশনবিহীন টাটা সিঙ্গেল কেবিন মিনি পিকআপ এবং ডাকাতির কাজে ব্যবহৃত সরঞ্জাম ফেলে পাশের হাওর এলাকায় পালিয়ে যায়। পরে ঘটনাস্থল থেকে ঢাকা মেট্রো-ট-২৪-২৯৭৯ নম্বরের ট্রাকে থাকা ৩১টি গরু এবং ডাকাতদের ব্যবহৃত আলামত উদ্ধার করা হয়। একই সঙ্গে ডাকাতদের হাতে জিম্মি থাকা ট্রাকের হেলপার হুমায়ুন কবির বিপ্লবকে (৫৫) হাত-পা বাঁধা অবস্থায় অক্ষত উদ্ধার করে পুলিশ।
বিজয়নগর থানার ওসি মোহাম্মদ আহসান উল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, দুই থানার পুলিশের সমন্বিত অভিযানের ফলেই এই সফল উদ্ধার কার্যক্রম সম্ভব হয়েছে। পলাতক ডাকাতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
ডিবিসি/পিআরএএন