ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ১৬ জন নিহতের ঘটনায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে মন্দবাগ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার জাকের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় মামলাটি করেন। আখাউড়া রেলওয়ে থানার ওসি শ্যামল কান্তি দাস জানান, রাতে মন্দবাগ রেলওয়ের স্টেশন মাস্টার জাকের হোসেন চৌধুরী বাদী হয়ে আখাউড়া রেলওয়ে থানায় একটি ইউডি (অপমৃত্যু) মামলা করেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মন্দবাগ রেলস্টেশনে তূর্ণা নিশীথা ও উদয়ন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষে দুর্ঘটনায় নিহত ১৬ জনই উদয়ন এক্সপ্রেস ট্রেনের যাত্রী। ঢাকাগামী তূর্ণা আর চট্টগ্রামগামী উদয়ন এক্সপ্রেসের সংঘর্ষে মুহূর্তেই দুমড়ে-মুচড়ে যায় উদয়ন এক্সপ্রেসের ৩টি বগি। বিধ্বস্ত হয় তূর্ণা এক্সপ্রেসের ইঞ্জিনও। দুই ট্রেনের সংঘর্ষে ঘটনাস্থলেই প্রাণ হারান ১০ জন। আহত হয় ৬২ জন যাত্রী। ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর, কসবা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেয়ার পর মৃত্যু হয় আরও ৫ জনের। বিধ্বস্ত বগির নিচ থেকে মেলে আরও একজনের মরদেহ।
ভয়াবহ এ দুর্ঘটনায় নিহতরা হলেন, ইয়াছিন আরাফাত (সদর, হবিগঞ্জ), রিপন মিয়া (সদর, হবিগঞ্জ), সুজন আহমেদ (চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ), পিয়ারা বেগম (চুনারুঘাট, হবিগঞ্জ), আল আমিন (বানিয়াচং, হবিগঞ্জ), আলী আহম্মেদ ইউসুফ (আনোয়ারপুর, হবিগঞ্জ), সোহামনি (বানিয়াচং, হবিগঞ্জ) আদিবা (বানিয়াচং, হবিগঞ্জ)। এছাড়া, মুজিবুর রহমান (হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর), কুলসুম বেগম (হাজীগঞ্জ, চাঁদপুর), ফারজানা (সদর, চাঁদপুর) এবং শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জের কাকলী বেগম, আমাতুন বেগম (ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর), মরিয়ম (ভেদরগঞ্জ, শরীয়তপুর), জাহেদা খাতুন (শ্রীমঙ্গল, মৌলভীবাজার), রবি হরিজন (মাইজদি, নোয়াখালী)।
দুর্ঘটনার পর প্রথমে উদ্ধার অভিযান শুরু করে এলাকাবাসী, পরে যোগ দেয় পুলিশ, জেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, বিজিবি ও র্যাব সদস্যরা। প্রায় ৭ ঘণ্টা পর বিধ্বস্ত বগিগুলো সরিয়ে নেয় রিলিফ ট্রেন। স্বাভাবিক হয় ঢাকা-চট্টগ্রাম রেলপথ। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, স্টেশনে প্রবেশ করতে থাকা উদয়ন এক্সপ্রেসের পেছনের দিকে তূর্ণা এক্সপ্রেস ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে।