বাংলাদেশ, জেলার সংবাদ

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় টিকা দিয়ে টাকা না পেয়ে রোগীদের আটকে রাখার চেষ্টা

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৭ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা (ভ্যাকসিন) প্রয়োগের নামে টাকা দাবি এবং তা না পেয়ে রোগীকে আটকে রাখার অভিযোগ উঠেছে এক নার্সের বিরুদ্ধে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হয়। এরই পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত নার্সকে শোকজ করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

জানা যায়, উপজেলার বিশারাবাড়ি এলাকার দুই শিশু আব্দুল্লাহ (৪) ও খাদিজা (৩) বিড়ালের কামড়ে আহত হয়। চিকিৎসার জন্য শুক্রবার (৫ জুন) রাতে তাদের চাচা সাব্বির কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। 

 

সেখানে জলাতঙ্ক প্রতিরোধী টিকা দেওয়ার সময় দায়িত্বরত নার্স মোর্শেদা আক্তার দুই শিশুর জন্য ২০০ টাকা দাবি করেন। স্বজনদের অভিযোগ, টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে ওই নার্স তাদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে রোগীদের আটকে রাখার চেষ্টা করেন। এ নিয়ে সেখানে ব্যাপক উত্তেজনার সৃষ্টি হয়।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ঘটনার একটি ভিডিওতে ওই নার্সকে রোগীর স্বজনদের উদ্দেশে বলতে শোনা যায়, ১০০ টাকা কি আপনার জন্য বেশি হয়ে যায়? আপনি দেন দেন বলছেন, আমি তো ভাবছি আপনি টাকা দেবেন। কিন্তু কেন আপনি টাকা দিচ্ছেন না?

 

ভুক্তভোগী শিশুদের চাচা সাব্বির অভিযোগ করে বলেন, হাসপাতালে নেওয়ার পর শুরুতে টিকা দিতে কিছুটা অনীহা দেখানো হলেও অনুরোধের পর টিকা দেওয়া হয়। কিন্তু টিকা দেওয়ার পরই তিনি টাকা দাবি করেন। আমরা টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তিনি বিভিন্ন ধরনের কথা বলেন এবং একপর্যায়ে বলেন, 'আমি এখান থেকে চলে যাব, স্যারকে বলেন আমাকে বদলি করে দিতে।' সরকারি হাসপাতালে জরুরি সেবায় এমন অর্থ দাবির ঘটনায় স্থানীয়দের মাঝে চরম ক্ষোভ ও উদ্বেগের সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযুক্ত নার্স মোর্শেদা আক্তারের বক্তব্য জানতে তার ব্যবহৃত মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

সার্বিক বিষয়ে কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো. আসাদুজ্জামান জানান, সরকারি হাসপাতালে সেবা নিতে রোগীর কাছ থেকে কোনো ধরনের টাকা নেওয়ার সুযোগ নেই।

 

 অভিযোগ পাওয়ার পর সংশ্লিষ্ট নার্সকে শোকজ করা হয়েছে। বিষয়টি তদন্তে একটি কমিটি গঠন করা হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে নার্সিং ও মিডওয়াইফারি অধিদপ্তরে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণ বা বদলির সুপারিশ করা হবে।
 

 

ডিবিসি/টিবিএ

আরও পড়ুন