পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারীর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএ) চন্দ্রনাথ রথকে খুনের নেপথ্যে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা কাজ করেছে বলে দাবি করেছেন শুভেন্দু। তার অভিযোগ, ভবানীপুর উপনির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের পরাজয় এবং তার সহকারী হিসেবে কাজ করার কারণেই চন্দ্রনাথকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) বিকালে বারাসত হাসপাতাল চত্বরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে শুভেন্দু অধিকারী এই দাবি করেন। চন্দ্রনাথের মৃত্যুকে ব্যক্তিগত ক্ষতি হিসেবে অভিহিত করে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও আইনি প্রক্রিয়ায় ফাঁসির দাবি জানিয়েছেন তিনি।
শুভেন্দু বলেন, একটি নিষ্পাপ, শিক্ষিত যুবককে কেবল বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর সহকারী হওয়ার অপরাধে খুন হতে হলো। ভবানীপুরে আমি মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে হারিয়েছি বলেই এই আক্রোশ। চন্দ্রনাথের কোনো অপরাধের ইতিহাস নেই, এমনকি সে সরাসরি রাজনীতির সঙ্গেও যুক্ত ছিল না।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এই হত্যাকাণ্ড চালানো হয়েছে। তদন্তকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেককে খুঁজে বের করে আইনি পথে ফাঁসির দড়িতে ঝোলাতে হবে। এদিন শুভেন্দুর সঙ্গে বিজেপি সংসদ সদস্য খগেন মুর্মু ও জ্যোতির্ময় সিং মাহাতো উপস্থিত ছিলেন।
শুভেন্দু জানান, রাজ্য পুলিশের ডিজিপির সঙ্গে তার কথা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি ঘটনাস্থল থেকে চার কিলোমিটার দূরে পরিত্যক্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে। নিহত চন্দ্রনাথের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয় ব্যক্ত করে শুভেন্দু বলেন, চন্দ্রনাথের স্ত্রী ও কন্যাসন্তানের দায়িত্ব নেওয়া আমার কর্তব্য। আমি দ্রুতই চণ্ডীপুরে তার বাড়িতে যাব।
গত বুধবার রাতে উত্তর ২৪ পরগনার মধ্যমগ্রামের দোহাড়িয়ায় শুভেন্দু অধিকারীর আপ্তসহায়ক চন্দ্রনাথ রথকে গুলি করে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ সময় তার গাড়িচালকও গুলিবিদ্ধ হন। দুজনকে উদ্ধার করে দ্রুত মধ্যমগ্রামের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসকরা চন্দ্রনাথকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত চালককে কলকাতার একটি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে ইতোমধ্যে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল (সিআইটি) গঠন করা হয়েছে। এই দলে রাজ্য পুলিশের পাশাপাশি সিআইডি কর্মকর্তাদেরও রাখা হয়েছে। তবে তদন্তের স্বার্থে সিটের সদস্য সংখ্যা বা কর্মকর্তাদের নাম এখনো প্রকাশ করা হয়নি।
সূত্র: আনন্দবাজার
ডিবিসি/এসএফএল