পঞ্চগড় সীমান্তে আটকে পড়াদের আকুতি

পঞ্চগড় সীমান্তে পুশইনের চেষ্টা বিএসএফ’র, বাঁচার আকুতি জিরো লাইনে আটকে পড়াদের

পঞ্চগড় প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

৫ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

“ভাই, আমার বাচ্চার জন্য একটু খাবার ও পানি এনে দেন, টাকা দিচ্ছি ” এমন আকুতি শোনা যায় পঞ্চগড় সদর উপজেলার হাড়িভাসা ইউনিয়নের বড়বাড়ি সীমান্তের জিরো লাইনে আটকে থাকা এক ব্যক্তির কণ্ঠে। পাশে থাকা শিশুটি তখন তৃষ্ণায় কাঁদছিল। টানা ৪০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে সীমান্তে আটকে থাকা ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুর মধ্যে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে রয়েছে তিনটি শিশু। খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে তারা বারবার কান্নাকাটি করছে।

শনিবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, ভারত ও বাংলাদেশের মাঝামাঝি জিরো লাইনে ভারতীয় ভূখণ্ডের খোলা আকাশের নিচে অবস্থান করছে তারা। দুই শিশুর বয়স ৬ বছর এবং অপর শিশুটির বয়স ৯ বছর। ক্ষুধা ও তৃষ্ণায় কাতর শিশুরা বারবার পানি চাইছে। তাদের কান্না থামাতে অসহায় হয়ে পড়েছেন বাবা-মায়েরা।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, শুক্রবার ভোরে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ১০ জনকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। তবে বিজিবির বাধার মুখে তারা বাংলাদেশে প্রবেশ করতে পারেনি। এরপর থেকে তারা দুই দেশের মাঝামাঝি সীমান্ত এলাকায় আটকে রয়েছে।

 

এর আগে বিএসএফ‘র পুশইনের চেষ্টা করলে বাধার মুখে শুক্রবার রাতভর মুষলধারে বৃষ্টির মধ্যে খোলা আকাশের নিচে রাত কাটাতে হয়েছে তাদের। দীর্ঘ সময় ধরে খাবার ও বিশুদ্ধ পানির অভাবে একপর্যায়ে বৃষ্টির পানি এবং আশপাশে জমে থাকা ডোবার পানি শিশুদের পান করছে বলে জানান এক বাবা। পানির সংকটে শিশুরা অসুস্থ হয়ে পড়ছে।

 

এদিকে, ৪০ ঘণ্টার বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও তাদের বিষয়ে কোনো সমাধান হয়নি। বাংলাদেশ অবৈধ পুশইন হিসেবে তাদের গ্রহণ করছে না, আবার ভারতও তাদের নিজ ভূখণ্ডে ফিরিয়ে নিচ্ছে না। ফলে তারা এখনো জিরো লাইনে অনিশ্চয়তার মধ্যে অবস্থান করছে।

 

নীলফামারী ৫৬ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমাদের বড়বাড়ি ক্যাম্পের বিপরীতে বিএসএফ ১০ জন নারী-পুরুষ ও শিশুকে বাংলাদেশে পুশইনের চেষ্টা করে। বিষয়টি নিয়ে ব্যাটালিয়ন পর্যায়ে পতাকা বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও বিএসএফ তাদের ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানায়। বর্তমানে তারা ভারতের অভ্যন্তরে ভারতীয় ভূখণ্ডেই অবস্থান করছে। সীমান্তে যেকোনো ধরনের পুশইন ও অবৈধ অনুপ্রবেশ প্রতিরোধে বিজিবির সার্বক্ষণিক নজরদারি ও টহল কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

 

ডিবিসি/ এইচএপি

আরও পড়ুন