কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নিজ বাড়ির সামনে নৃশংস হামলায় নিহত হয়েছেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি (পদ স্থগিত) জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর।
অভিযোগ উঠেছে, ঢাকা থেকে আসা ভাড়াটে খুনিরাই এ হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে। হামলার সময় একজনকে চাপাতিসহ আটক করেন স্থানীয়রা। পরে দুই সন্দেহভাজনকে আটক করেছে পুলিশ।
বুধবার (১৫ জুলাই) রাত সাড়ে ৯টার দিকে মিঠামইন বাজারে দলীয় কর্মীদের সঙ্গে বৈঠক শেষে মোটরসাইকেলে বাড়ি ফিরছিলেন বিএনপি নেতা জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর। বাড়ির সামনে মোটরসাইকেল থেকে নামতেই আগে থেকে ওঁত পেতে থাকা তিন দুর্বৃত্ত ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি কুপিয়ে গুরুতর জখম করে তাঁকে। তাঁকে রক্ষা করতে গেলে সঙ্গে থাকা হাদিস মিয়াকেও কুপিয়ে আহত করা হয়। ধস্তাধস্তির একপর্যায়ে হামলাকারীদের একজনকে ধরে ফেলেন হাদিস মিয়া।
চিৎকার শুনে স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা পালানোর চেষ্টা করে। তবে ঘটনাস্থলেই চাপাতিসহ একজনকে আটক করা হয়। পরে করিমগঞ্জের বালিখোলা এলাকা থেকে অভিযান চালিয়ে আরও দুই সন্দেহভাজনকে আটক করে পুলিশ। কিশোরগঞ্জ জেলার পুলিশ সুপার জানিয়েছেন, জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীরের হত্যাকাণ্ডে অংশগ্রহণকারী সন্ত্রাসীরা বহিরাগত এবং ভাড়াটে খুনি। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের পরিকল্পনাকারী কারা এবং কী উদ্দেশ্যে এ হামলা চালানো হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
গুরুতর আহত অবস্থায় জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর ও হাদিস মিয়াকে প্রথমে মিঠামইন উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হলে চিকিৎসক জাহাঙ্গীরকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত হাদিস মিয়া হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত এই নেতাকে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ভাড়াটে খুনি দিয়ে হত্যা করা হয়েছে। তাঁরা দ্রুত হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
ডিবিসি/এসভিএন