২০১৭ সালের মার্চ মাসে যোগী আদিত্যনাথ উত্তরপ্রদেশের (ইউপি) মুখ্যমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাজ্যটিতে ১৭ হাজার ৪৩টি পুলিশের 'এনকাউন্টার' বা বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (১৮ মে) ইউপি সরকারের প্রকাশিত এক পরিসংখ্যানে এই তথ্য জানানো হয়েছে। হিসাব অনুযায়ী, রাজ্যটিতে গত কয়েক বছরে প্রতিদিন গড়ে পাঁচটি করে এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটেছে।
রাজ্য সরকারের দাবি, সংগঠিত অপরাধ ও গুরুতর অপরাধ দমনের লক্ষ্যে চালানো এই অভিযানগুলোতে ২৮৯ জন 'চিহ্নিত অপরাধী' নিহত এবং ১১,৮৩৪ জন আহত হয়েছে। এই সময়ের মধ্যে মোট ৩৪,২৫৩ জন অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা হয়। তবে এসব অভিযানে পুলিশেরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে; এনকাউন্টারগুলোতে প্রাণ হারিয়েছেন ১৮ জন পুলিশ সদস্য এবং আহত হয়েছেন আরও ১,৮৫২ জন।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে মিরাট জোনে। সেখানে ৪,৮১৩টি এনকাউন্টারে ৯৭ জন 'কুখ্যাত অপরাধী' নিহত, ৩,৫১৩ জন আহত এবং ৮,৯২১ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই জোনে দুজন পুলিশ সদস্য নিহত ও ৪৭৭ জন আহত হন। এরপরের অবস্থানে রয়েছে বারাণসী এবং আগ্রা জোন। বারাণসীতে ১,২৯২টি এনকাউন্টারে ২৯ জন অপরাধী নিহত, ৯০৭ জন আহত এবং ২,৪২৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয় (আহত পুলিশ ১০৪ জন)। অন্যদিকে আগ্রা জোনে ২,৪৯৪টি এনকাউন্টারে ২৪ জন নিহত, ৯৬৮ জন আহত এবং ৫,৮৪৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে (আহত পুলিশ ৬২ জন)।
অন্যান্য জোন ও কমিশনারেটগুলোর পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বেরিলিতে ২১ জন, লখনউ জোনে ২০ জন, গাজিয়াবাদ কমিশনারেটে ১৮ জন (কমিশনারেটগুলোর মধ্যে সর্বোচ্চ), কানপুর জোনে ১২ জন, লখনউ কমিশনারেটে ১২ জন, প্রয়াগরাজ জোনে ১১ জন, আগ্রা কমিশনারেটে ১০ জন, গৌতম বুদ্ধ নগর জোনে ৯ জন, গোরক্ষপুর জোনে ৮ জন, বারাণসী কমিশনারেটে ৮ জন, প্রয়াগরাজ কমিশনারেটে ৬ জন এবং কানপুর কমিশনারেটে ৪ জন অপরাধী নিহত হয়েছেন।
রাজ্য সরকারের এই বিস্তারিত পরিসংখ্যান এমন এক সময়ে প্রকাশ পেল, যার মাত্র এক সপ্তাহ আগেই (৬ ও ৭ মে) রাজ্যটিতে ৩৫টি এনকাউন্টারের ঘটনা ঘটে। এতে ৩ জন নিহত ও ৩৫ জন আহত হয়। উল্লেখ্য, এসব বন্দুকযুদ্ধের বেশিরভাগ ঘটনার পুলিশের দেওয়া বিবরণ প্রায় একই রকম সন্দেহভাজনরা পুলিশের দিকে গুলি ছোঁড়ে, পালানোর চেষ্টা করে এবং এরপর পুলিশের পাল্টা গুলিতে তাদের পায়ে আঘাত লাগে।
তবে এ ধরনের পুলিশি অভিযানের বিষয়ে গত জানুয়ারিতেই এলাহাবাদ হাইকোর্ট কঠোর সমালোচনা করেছিল। আদালত জানিয়েছিল, উত্তরপ্রদেশে এনকাউন্টার এখন একটি ‘নিয়মিত ঘটনায়’ পরিণত হয়েছে এবং ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের খুশি করতে বা অভিযুক্তদের শিক্ষা দিতেই মূলত এগুলো করা হচ্ছে। পায়ে গুলিবিদ্ধ হয়ে গ্রেপ্তার হওয়া তিন ব্যক্তির জামিন শুনানিকালে বিচারপতি অরুণ কুমার সিং দেশওয়ালের বেঞ্চ মন্তব্য করেন, ‘আদালত প্রায়ই এমন মামলার সম্মুখীন হচ্ছে যেখানে চুরির মতো সামান্য অপরাধের ক্ষেত্রেও পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালিয়ে পুরো ঘটনাটিকে একটি পুলিশি এনকাউন্টার হিসেবে তুলে ধরছে।’
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ডিবিসি/এফএইচআর