আন্তর্জাতিক

ভারতের কাছে জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পাঠানোর অনুরোধ কাশ্মীরি নেতার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৬ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে (পিওকে) চলমান বিক্ষোভ দমনে কর্তৃপক্ষের কঠোর পদক্ষেপ ও অঘোষিত অর্থনৈতিক অবরোধের জেরে সেখানে চরম মানবিক বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। এই সংকটময় পরিস্থিতিতে ভারতের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক স্থাপনের আহ্বান জানিয়ে নয়াদিল্লির কাছে জরুরি খাদ্য ও ওষুধ পাঠানোর অনুরোধ করেছেন আন্দোলনকারী সংগঠন ‘জয়েন্ট আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’র (জেএএসি) নেতা সর্দার আমান খান।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এক ভিডিও বার্তায় আমান খানকে বলতে শোনা যায়, ‘আমাদের ভারতের সাহায্য প্রয়োজন। এখানে তীব্র খাদ্যসংকট দেখা দিয়েছে, আমাদের আপনাদের সাহায্য দরকার।’ 

 

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভি জানিয়েছে, গত ৩০ জুন অনুষ্ঠিত একটি সমাবেশের এই ভিডিওটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

 

আন্দোলনকারীদের দাবি, পাকিস্তান সরকার তাদের কণ্ঠরোধ করতে রেশন ও প্রয়োজনীয় সামগ্রী সরবরাহ বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে পুরো অঞ্চলে খাদ্য ও ওষুধের তীব্র হাহাকার তৈরি হয়েছে। পরিস্থিতি আরও খারাপ হলে সাধারণ মানুষ যেন ভারতে আশ্রয় নিতে পারে, সেজন্য পুঞ্চ ও দোদা সেক্টরে নিয়ন্ত্রণ রেখা (এলওসি) খুলে দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন আমান খান।

 

রাওয়ালকোটের ঈদগাহ ময়দানে আয়োজিত বিশাল এক সমাবেশে উপস্থিত জনতার উদ্দেশে আমান খান প্রশ্ন করেন, তাদের এলওসির দিকে অগ্রসর হওয়া উচিত কি না। জবাবে সমবেত জনতা বারবার চিৎকার করে বলে, সামনে এগিয়ে চলুন।

 

আমান খান হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, কর্তৃপক্ষ যদি জনগণের ন্যায্য দাবির জবাব বুলেট দিয়ে দেয়, তবে তাদের সামনেও অন্য পথ খোলা আছে।

 

গত মাস থেকে পাকিস্তানি প্রশাসনের বিরুদ্ধে কাশ্মীরে ব্যাপক বিক্ষোভ চলছে। এসব সংঘাতে ইতিমধ্যে কয়েক ডজন মানুষের প্রাণহানি ঘটেছে। গত সপ্তাহে ঈদগাহ ময়দানের ওই প্রতিবাদ সমাবেশে সমবেত জনতাকে ‘পিওকে পাকিস্তানের অংশ নয়’ এবং ‘আমরা স্বাধীনতা চাই’ বলে স্লোগান দিতে দেখা যায়। মূলত স্থানীয় কিছু সংস্কারের দাবি নিয়ে এই আন্দোলন শুরু হলেও, তা এখন ইসলামাবাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণ থেকে সম্পূর্ণ মুক্ত হওয়ার বা স্বাধীনতার দাবিতে রূপ নিয়েছে।

 

গত ৫ জুন পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ তৃণমূল স্তরের সংগঠন জেএএসি-কে ‘সন্ত্রাসী’ আখ্যা দিয়ে নিষিদ্ধ ঘোষণা করার পর সেখানকার অসন্তোষ আরও তীব্র হয়। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই রাজনৈতিক সংকট স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ইসলামাবাদের অনুগত ও ‘ক্ষমতাহীন’ আঞ্চলিক প্রশাসনের গভীর দূরত্বকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

 

‘ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ’-এর সাম্প্রতিক এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পাকিস্তান সরকার দীর্ঘদিন ধরে তাদের মূলধারার রাজনৈতিক দলগুলোর মাধ্যমে এই অঞ্চলের রাজনীতি নিয়ন্ত্রণ করে আসছে। এতে স্থানীয় দলগুলোর অধিকার চরমভাবে খর্ব করা হয়েছে। প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, ইসলামাবাদে যে দল ক্ষমতায় থাকে, পিওকে ও গিলগিট-বালতিস্তানের নির্বাচনে বরাবরই সেই দলের জয়ী হওয়া কোনো সাধারণ কাকতালীয় বিষয় নয়, বরং এটি সুপরিকল্পিত রাজনৈতিক নিয়ন্ত্রণেরই অংশ।

 

বর্তমান পরিস্থিতি পাকিস্তান শাসিত কাশ্মীরে এক চরম অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে, যেখানে স্থানীয় নেতারা নিজেদের অধিকার ও অস্তিত্ব রক্ষায় এখন সরাসরি ভারতের হস্তক্ষেপ ও সহায়তা কামনা করছেন।

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন