ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের পর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নতুন দায়িত্ব পেয়েছেন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশী। দেশটিতে পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস এবং শিক্ষাব্যবস্থায় ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগে শিক্ষার্থীদের টানা আন্দোলনের মুখে শনিবার (২৫ জুলাই) পদত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র প্রধান।
শনিবার সন্ধ্যায় ভারতের রাষ্ট্রপতি কার্যালয় থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়, ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগপত্র আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণ করা হয়েছে। এরপর প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পরামর্শক্রমে বর্তমান খাদ্য ও ভোক্তা বিষয়ক মন্ত্রী প্রহ্লাদ যোশীকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এর ফলে তিনি এখন থেকে একই সঙ্গে সরকারের দুটি গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের নেতৃত্ব দেবেন।
দিল্লির যন্তর-মন্তরে চলা প্রশ্নফাঁসবিরোধী আন্দোলন ৩৫তম দিনে গড়ালে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নেন। নিজের পদত্যাগপত্রে তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো দেশবিরোধী শক্তি যেন অন্যায্য ফায়দা লুটতে না পারে, মূলত সেই বিষয়টি বিবেচনা করেই তিনি পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। তিনি আরও লেখেন যে, চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি শিক্ষার্থী, শিক্ষক ও শিক্ষা সংস্কারের জন্য কাজ করে গেছেন। একটি শক্তিশালী, অন্তর্ভুক্তিমূলক ও দূরদর্শী শিক্ষাব্যবস্থাই যেকোনো শক্তিশালী জাতির মূল ভিত্তি তৈরি করে বলে তিনি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করেন।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ ছিল 'ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)'-এর অন্যতম প্রধান দাবি। সংগঠনটির নেতৃত্বে থাকা অভিজিৎ দিপকে দেশজুড়ে প্রশ্নফাঁস ও পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে এই বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দিয়েছিলেন। শেষ পর্যন্ত সেই আন্দোলনের জেরেই শিক্ষামন্ত্রীর এই রদবদল ঘটল।
ডিবিসি/পিআরএএন