আন্তর্জাতিক, ভারত

ভারতের পশ্চিমবঙ্গে কালবৈশাখীর তাণ্ডবে নিহত ৭

কলকাতা প্রতিনিধি

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

তীব্র কালবৈশাখী ঝড় ও আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগে তছনছ হয়ে গেল পশ্চিমবঙ্গের একাধিক জেলা। শুক্রবার দুপুরে কলকাতা-সহ রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে এই বিপর্যয়ের জেরে এখন পর্যন্ত মোট ৭ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।

এই মর্মান্তিক ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। একই সঙ্গে মৃতদের পরিবারকে ৪ লক্ষ টাকা করে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার ঘোষণা করেছেন তিনি।


মুখ্যমন্ত্রী জানান, ঝড়ের দাপটে ও গাছ ভেঙে পড়ে রাজ্যের বিভিন্ন প্রান্তে যারা আহত হয়েছেন, তাদের দ্রুত চিকিৎসার বন্দোবস্ত করছে সরকার। মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে দেন, আহতদের ক্ষেত্রে টাকা দেওয়ার চেয়ে এই মুহূর্তে আগে সঠিক চিকিৎসা শুরু করাটা অত্যন্ত জরুরি। তাই চিকিৎসার বন্দোবস্ত আগে করা হচ্ছে। তবে তাদের কত টাকা আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে, সেই বিষয়ে এখনই কোনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।


শুক্রবার বিকেলের সেই মারাত্মক ঝড়-বৃষ্টিতে সবথেকে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে কলকাতা, হাওড়া এবং বিধাননগর এলাকা। আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কলকাতার ওপর দিয়ে প্রায় ৮৮ কিলোমিটার বেগে স্কোয়াল বা দমকা ঝড় বয়ে গিয়েছে। ঝড়ের দাপটে প্রিন্সেপ ঘাটের কাছে গাছ ভেঙে পড়ে এক ব্যক্তির মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে। অন্যদিকে, সাউথ সিটি মলের কাচের একাংশ ভেঙে পড়ায় তীব্র আতঙ্ক ছড়ায়।


শহরের বহু রাস্তায় উপড়ে পড়েছে শতাব্দীপ্রাচীন বড় বড় গাছ। এর ফলে সম্পূর্ণ বিপর্যস্ত হয়ে পড়ে ট্রাফিক ব্যবস্থা। মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, রাস্তা ওপর ভেঙে পড়া গাছ এবং ডালপালা সরিয়ে যান চলাচল স্বাভাবিক করতে বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনী ও রাজ্য পুলিশকে দ্রুত কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইতিমধ্যেই বহু জায়গায় রাস্তা পরিষ্কারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে।


আলিপুর আবহাওয়া দপ্তর সূত্রে জানা যায়, দক্ষিণবঙ্গের ওপর এখনও ঘূর্ণাবর্ত ও নিম্নচাপ অক্ষরেখা সক্রিয় রয়েছে। ফলে শনিবারও কলকাতা-সহ দক্ষিণবঙ্গের অন্তত ১০টি জেলায় তীব্র ঝোড়ো হাওয়া এবং বজ্রবিদ্যুৎ-সহ ভারী বৃষ্টির পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।


উদ্ভূত পরিস্থিতির দিকে কড়া নজর রাখছে নবান্নের কন্ট্রোল রুম। অবিন্যস্ত তার এবং বিপজ্জনক গাছগুলির আশপাশ থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছে প্রশাসন।


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন