ভারতে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা (নিট) প্রশ্নপত্র ফাঁসের ঘটনাকে কেন্দ্র করে দেশজুড়ে চলমান উত্তাল আন্দোলনের মধ্যেই নতুন করে আরও দুটি বিশ্ববিদ্যালয় পরীক্ষার প্রশ্নফাঁসের চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হওয়ায় সংশ্লিষ্ট পরীক্ষা দুটি বাতিল করেছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ঘটনাটি ঘটেছে ‘বীর মাধো সিং ভান্ডারি উত্তরাখণ্ড টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটি’তে। বিশ্ববিদ্যালয়টি তাদের চলতি সেমিস্টারের ‘মেশিন লার্নিং ফর ইন্টারনেট অব থিংস’ এবং ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থিওরি’ বিষয়ের পরীক্ষা দুটি বাতিল ঘোষণা করেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব তদন্তে উঠে এসেছে, একজন বহিরাগত প্রশ্নপ্রণেতা পরীক্ষার আগেই প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরীণ পোর্টাল এবং হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের কাছে কিছু প্রশ্ন পাঠিয়েছিলেন, যা মূল প্রশ্নপত্রের সঙ্গে হুবহু মিলে যায়।
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ড. ভি. কে. প্যাটেল জানান, প্রথমে ‘মেশিন লার্নিং ফর ইন্টারনেট অব থিংস’ বিষয়ের প্রশ্নফাঁসের তথ্য মেলে। পরবর্তীতে তদন্তে দেখা যায়, একই শিক্ষকের তৈরি ‘ইলেক্ট্রোম্যাগনেটিক ফিল্ড থিওরি’ পরীক্ষার প্রশ্নপত্রেও একইভাবে জালিয়াতি করা হয়েছে।
ঘটনার পর দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে দুটি পরীক্ষাই বাতিল করা হয়েছে এবং আগামী আগস্টের তৃতীয় সপ্তাহে পুনরায় পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। এই পুনঃপরীক্ষায় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিভুক্ত ১২টি প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা অংশ নেবেন।
অন্যদিকে, জালিয়াতির সঙ্গে জড়িত শিবালিক কলেজ অব ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের অভিযুক্ত সহকারী অধ্যাপককে তাৎক্ষণিকভাবে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সব ধরনের পরীক্ষা-সংক্রান্ত কার্যক্রম থেকে আগামী সাত বছরের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে। সেই সঙ্গে পর্যাপ্ত তদারকি নিশ্চিত করতে না পারায় সংশ্লিষ্ট শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেও কড়া সতর্কবার্তা দিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ।
উল্লেখ্য, উত্তরাখণ্ডে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সরকারি নিয়োগ ও প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস রুখতে কঠোর আইন করা হলেও একের পর এক এমন ঘটনায় পরীক্ষার স্বচ্ছতা নিয়ে পুনরায় বড় প্রশ্ন উঠে গেল।
ডিবিসি/এমএনকে