সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজের বিলাসবহুল জীবনযাপন, নগদ অর্থ এবং সোনার গয়নার প্রদর্শনী করে বাস্তবে চরম বিপদের মুখে পড়েছেন ভারতের মধ্যপ্রদেশের শিবপুরি জেলার এক গৃহবধূ ও ইউটিউবার। অনলাইনে পোস্ট করা এসব ভিডিও দেখেই অপরাধীরা চুরির ছক কষেছিল বলে ধারণা করছে পুলিশ।
শনিবার (৬ জুন) ভোরে শিবপুরির মোহানি গ্রামে ইউটিউবার রচনা গুরজারের বাড়িতে এই চুরির ঘটনা ঘটে। অজ্ঞাত চোরেরা বাড়িতে ঢুকে রচনা ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের একটি কক্ষে তালাবদ্ধ করে রাখে। এরপর তারা সোনা ও রুপার গয়না, নগদ অর্থ এবং এক কার্টন এনার্জি ড্রিংকসহ আনুমানিক ৮ থেকে ১০ লাখ টাকার মালামাল লুট করে নিয়ে যায়।
ভুক্তভোগী রচনা গুরজার নারওয়ার থানায় দায়ের করা অভিযোগে জানান, রাত ২টার দিকে পরিবারের সবাই যখন ঘুমাচ্ছিলেন, তখন চোরেরা ঘরে প্রবেশ করে। চুরি করার আগে তারা লাঠিজাতীয় কিছুর সাহায্যে সিসিটিভি ক্যামেরার দিক পরিবর্তন করে দেয়, যাতে তাদের চেহারা রেকর্ড না হয়। ভোর ৪টার দিকে ঘুম ভাঙলে পরিবারের সদস্যরা বুঝতে পারেন যে তাঁদের বাইরে থেকে তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে। পরে আত্মীয়দের খবর দিলে তাঁরা এসে দরজা খুলে সবাইকে উদ্ধার করেন।
শিবপুরির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার সঞ্জীব মুলে চুরির বিষয়টি নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, এ ঘটনায় একটি মামলা দায়ের করা হয়েছে। অভিযুক্তদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক দল কাজ করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তারা ইতিমধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ শুরু করেছেন। একটি ফুটেজে মুখ ঢাকা এক ব্যক্তিকে লাঠি দিয়ে ক্যামেরার দিক পরিবর্তন করতে দেখা গেছে। পুলিশের সন্দেহ, অভিযুক্তরা একই গ্রাম বা আশেপাশের এলাকার হতে পারে এবং তারা এই বাড়ি ও পরিবারের দৈনন্দিন কার্যক্রম সম্পর্কে আগে থেকেই অবগত ছিল।
এই চুরির পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ভূমিকা গভীরভাবে খতিয়ে দেখছে পুলিশ। এক লাখেরও বেশি ফলোয়ার থাকা রচনা গুরজার সম্প্রতি তাঁর বাড়ি, গয়না, নগদ অর্থ এবং বিলাসী জীবনের নানা ভিডিও পোস্ট করেছিলেন। একটি ভিডিওতে তিনি বাড়ির প্রবেশদ্বার থেকে শুরু করে বিভিন্ন কক্ষের খুঁটিনাটি দৃশ্য তুলে ধরেন। অন্য একটি ভিডিওতে টেবিলের ওপর রাখা গয়না ও নগদ অর্থ প্রদর্শন করেন।
পুলিশের ধারণা, চোরেরা এসব ভিডিও দেখেই চুরির নিখুঁত পরিকল্পনা করেছিল। ভিডিওগুলোর মাধ্যমে তারা বাড়ির নকশা, মূল্যবান জিনিসপত্রের অবস্থান এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থা সম্পর্কে স্পষ্ট ধারণা পেয়েছিল। অনলাইনে দেখানো এই বিলাসী জীবনের ঝলকানিই মূলত অপরাধীদের জন্য চুরির পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করেছে। এই ঘটনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নিজেদের সম্পদ এবং বাড়ির ভেতরের দৃশ্য প্রদর্শনের ঝুঁকি সম্পর্কে একটি গুরুতর সতর্কবার্তা দিচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এফএইচআর