আন্তর্জাতিক, ভারত

ভারতে ক্যামেরার সামনেই চড়-থাপ্পড় খেলেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ১৫ই জুন ২০২৬ ১০:২৭:৩১ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

দিল্লিতে গত ৬ই জুন একটি আন্দোলনের মঞ্চ থেকে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ ঘোষণা করেছিল, দেশজুড়ে নিট পরীক্ষা ও অন্যান্য প্রশ্নপত্র ফাঁস এবং শিক্ষা ব্যবস্থার নানাবিধ ত্রুটির অভিযোগে যদি শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান এক সপ্তাহের মধ্যে পদত্যাগ না করেন, তবে দেশব্যাপী তীব্র আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।

সেই আলটিমেটামের পর, সোমবার রাজস্থানের জয়পুরের শহীদ স্মারক-এ প্রশ্নপত্র ফাঁস, শিক্ষা দুর্নীতি এবং বেকারত্ব সমস্যার বিরুদ্ধে এক বিক্ষোভ সমাবেশের আয়োজন করে সংগঠনটি। শুরুতে এটি একটি ব্যঙ্গাত্মক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও, বর্তমানে তারা বেশ কিছু সামাজিক ও রাজনৈতিক ইস্যুতে সোচ্চার ভূমিকা পালন করছে।


সোমবার জয়পুরের রাজপথে আন্দোলন চলাকালীন এক নজিরবিহীন সহিংসতার ঘটনা ঘটে। ক্যামেরায় ধরা পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে যখন সমর্থকদের কাঁধে চেপে স্লোগান দিচ্ছিলেন, ঠিক তখনই এক ব্যক্তি আচমকা তার গলায় থাকা উত্তরীয় ধরে টান মারে। এরপর অন্তত দুজন ব্যক্তি মিলে দীপকে-কে লক্ষ্য করে একের পর এক চড় মারতে শুরু করে। এই অতর্কিত হামলায় সেখানে মুহূর্তের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। অবশ্য সঙ্গে সঙ্গেই দীপকের সমর্থকরা আক্রমণকারীদের ধরে ফেলে পাল্টা মারধর শুরু করে এবং পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে।


ঘটনার পর পুলিশ দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। স্থানীয় বিধায়কপুরী থানার পুলিশ আধিকারিকরা জানিয়েছেন, এই হামলার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে ইতিমধ্যেই ৬ জনকে আটক করা হয়েছে। ধৃতদের নাম, ঠিকানা ও পরিচয় যাচাইয়ের কাজ চলছে। ঠিক কী উদ্দেশ্যে এবং কাদের উসকানিতে এই হামলা চালানো হলো, তা খতিয়ে দেখতে একটি তদন্ত শুরু করা হয়েছে। গোটা ঘটনার ভিডিও ফুটেজ পরীক্ষা করা হচ্ছে।


উল্লেখ্য, রবিবারের রাত পর্যন্ত এই আন্দোলনের জন্য পুলিশের পক্ষ থেকে কোনো লিখিত অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে পরবর্তীতে কিছু নির্দিষ্ট শর্তসাপেক্ষে আন্দোলনের ছাড়পত্র মেলে। শর্তগুলির মধ্যে অন্যতম ছিল, সমাবেশে কোনোভাবেই ৮০০ জনের বেশি মানুষ জমায়েত হতে পারবেন না।


এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে এবং নিজের অনড় অবস্থানের কথা স্পষ্ট করে সমাজমাধ্যম এক্স-এ একটি বার্তা দিয়েছেন অভিজিৎ দীপকে। তিনি লেখেন, শারীরিক আক্রমণ আদতে ভয় এবং কাপুরুষতার লক্ষণ। আমরা সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণভাবে আমাদের কণ্ঠস্বর তুলে ধরা বজায় রাখব। আমি মহাত্মা গান্ধী এবং বাবাসাহেব আম্বেদকরের আদর্শে বিশ্বাসী। শান্তি ও ভালোবাসার পথেই আমি এই লড়াই চালিয়ে যাব।


বার্তার শেষে তিনি আবারও দাবি তোলেন, পুনশ্চ: ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অবিলম্বে পদত্যাগ করতে হবে!


হামলার শিকার হওয়া সত্ত্বেও সিজেপি নেতৃত্ব সাফ জানিয়ে দিয়েছে যে, কোনো প্রকার সহিংসতা বা ভয় দেখিয়ে তাদের এই অহিংস আন্দোলনকে স্তব্ধ করা যাবে না। আগামী দিনেও দেশের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে তাদের এই শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জারি থাকবে।


সূত্র: এনডিটিভি


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন