যশোরের বেনাপোলসহ শার্শার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতে চামড়া পাচার প্রতিরোধে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। পবিত্র ঈদুল আজহার দিন থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সীমান্তের ঝুঁকিপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে এই বিশেষ সতর্কতা জারি থাকবে বলে জানা গেছে।
এদিকে সীমান্তে বিজিবির পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও প্রশাসনেরও কঠোর নজরদারি রয়েছে। তবে দেশের বাজারে চামড়ার ন্যায্য মূল্য না পাওয়ায় এবার সীমান্ত দিয়ে চামড়া পাচারের শঙ্কা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বিক্রেতা ও ব্যবসায়ীরা।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান সীমান্তে বিজিবির এই বাড়তি সতর্কতা জারির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী ও সীমান্ত সূত্রে জানা যায়, বিগত কয়েক বছরের মতো এবারও দেশের বাজারে পশুর চামড়ার দাম বেশ কম। এমনকি অনেক মৌসুমী ব্যবসায়ী কেনা দামেও চামড়া বিক্রি করতে পারছেন না। সরকার নির্ধারিত দামের সুফলও তৃণমূল পর্যায়ে মিলছে না। ফলে বেশি মুনাফার আশায় একশ্রেণীর অসাধু চক্র ভারতে চামড়া পাচারের চেষ্টা করতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ওপারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, ভারতের পশ্চিমবঙ্গে বর্তমানে পাঁচ মণ ওজনের কোরবানির গরুর চামড়া ৬০০ থেকে ৮০০ রুপি এবং ১০ মণ ওজনের গরুর চামড়া ১,২০০ রুপিরও বেশি মূল্যে বিক্রি হচ্ছে; যা বাংলাদেশের বর্তমান বাজারদরের চেয়ে অনেক বেশি।
বিজিবি জানায়, যশোরের যেসব সীমান্ত রুট দিয়ে চামড়া পাচারের সম্ভাবনা থাকে, সেসব এলাকাকে বিশেষ নজরদারিতে রাখা হয়েছে। এই সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার পাশাপাশি চামড়া পাচার প্রতিরোধে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদেরও সহযোগিতা চেয়েছে বিজিবি।
যশোর-৪৯ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল গোলাম মোহাম্মদ সাইফুল আলম খান বলেন, সীমান্ত দিয়ে ভারতে চামড়া পাচার রোধে বিজিবিকে সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সীমান্ত পয়েন্টে কড়া নজরদারি রয়েছে। বিশেষ করে রাতের বেলার টহল ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে, যাতে কেউ কোনোভাবেই চামড়া পাচার করতে না পারে। ঝুঁকিপূর্ণ সীমান্তগুলো চিহ্নিত করে অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত এই আদেশ বলবৎ থাকবে।
ডিবিসি/এসএফএল