উত্তরাখণ্ডের চামোলি জেলায় একটি নির্মাণাধীন জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে আকস্মিক জল ও ধ্বংসাবশেষ ঢুকে পড়ার মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় ৭ জনের মৃত্যু হয়েছে। রাজ্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই ঘটনায় আরও দু'জন শ্রমিক সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা পড়ে আছেন এবং তাঁদের উদ্ধারে তৎপরতা চালাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে চামোলির পিপলকোটিতে তেহরি হাইড্রো ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেড (টিএইচডিসি)-এর একটি প্রকল্পস্থলে এই দুর্ঘটনা ঘটে। হঠাৎ করেই বিপুল পরিমাণ জল ও আবর্জনা সুড়ঙ্গের ভেতরে প্রবেশ করলে সেখানে কর্মরত ২২ জন শ্রমিকের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। প্রবল স্রোতের তোড়ে অনেক শ্রমিক সুড়ঙ্গের নির্গমন পথের দিকে ভেসে যান।
দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই জাতীয় দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এনডিআরএফ) এবং রাজ্য দুর্যোগ মোকাবিলা বাহিনী (এসডিআরএফ)-এর দলগুলো যৌথভাবে উদ্ধারকাজ চালিয়ে যাচ্ছে। ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে আটকে থাকা শ্রমিকদের দ্রুত খুঁজে বের করাই এখন প্রশাসনের প্রধান অগ্রাধিকার।
উত্তরাখণ্ডের মুখ্যমন্ত্রী পুষ্কর সিং ধামি পুরো পরিস্থিতির ওপর নিজে নজর রাখছেন এবং যুদ্ধকালীন তৎপরতায় ত্রাণ ও উদ্ধার কাজ পরিচালনার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসাধীন আহত শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাঁদের শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি, ঝাড়খণ্ড ও ছত্তিশগড়ের মুখ্যমন্ত্রীদের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের রাজ্যের আহত শ্রমিকদের চিকিৎসার বিষয়টিও অবহিত করেছেন তিনি।
স্থানীয় বিধায়ক লাখপত বুটোলা এই ঘটনাকে অত্যন্ত মর্মান্তিক উল্লেখ করে বলেন যে, প্রশাসন ও উদ্ধারকর্মীরা অবিরাম কাজ করে যাচ্ছেন।
গত কয়েকদিন ধরে চামোলি জেলায় টানা ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে। গত সোমবার নদীর জলস্তর বৃদ্ধি পাওয়ায় প্রবল স্রোতে নীতি উপত্যকা অঞ্চলের একটি সেতু সম্পূর্ণ ভেসে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছিল। আবহাওয়ার এই চরম প্রতিকূল অবস্থাই সাম্প্রতিক এই সুড়ঙ্গ দুর্ঘটনার নেপথ্যে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এমএনকে