ভারতের আসাম রাজ্যে কুসংস্কারের বলি হয়ে নির্মমভাবে প্রাণ হারালেন এক দম্পতি। ‘ডাইনি’ বা কালো জাদু চর্চার সন্দেহে গ্রামের উত্তেজিত জনতা প্রথমে তাদের ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপায় এবং পরে ঘরে আগুন দিয়ে জ্যান্ত পুড়িয়ে মারে। পুলিশ এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত সব গ্রামবাসীকে গ্রেপ্তার করেছে।
মর্মান্তিক এই ঘটনাটি ঘটেছে আসামের কার্বি আংলং জেলার হাওড়াঘাট এলাকার ১ নম্বর বেলোগুড়ি মুন্ডা গ্রামে। নিহত দম্পতির নাম গার্দি বিরোওয়া এবং মিরা বিরোওয়া।
এনডিটিভির সূত্রে জানা যায়, গত মঙ্গলবার গ্রামের একদল লোক ডাইনি সন্দেহে ওই দম্পতির ওপর চড়াও হয়। প্রথমে ধারালো অস্ত্র দিয়ে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়। এরপর তাদের বাড়ির ভেতরে আটকে রেখে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। ফলে ঘটনাস্থলেই আগুনে পুড়ে তাদের মৃত্যু হয়।
খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে তদন্ত শুরু করে এবং অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করে। সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে একজন পুলিশ কর্মকর্তা জানান, ওই অঞ্চলটি এখনো চরম কুসংস্কারের অন্ধকারে ডুবে আছে। তিনি বলেন, মানুষ এখনো গুজবে বিশ্বাস করে, যার ফলে কিছু নিরপরাধ মানুষকে এমন ভয়াবহ পরিণতির শিকার হতে হয়।
আসামে ডাইনি শিকার বা ‘উইচ হান্টিং’ বন্ধে ২০১৫ সালে ‘আসাম উইচ হান্টিং (প্রহিবিশন, প্রিভেনশন অ্যান্ড প্রোটেকশন) অ্যাক্ট’ নামে অত্যন্ত কঠোর আইন প্রণয়ন করা হয়। কাউকে ডাইনি আখ্যা দেওয়া এবং হত্যা করার জন্য এই আইনে কঠোর শাস্তির বিধান রয়েছে। তবুও গত ১০ বছরে রাজ্যটিতে ডাইনি সন্দেহে ১০০ জনেরও বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়েছে।
ডিবিসি/এমইউএ