আন্তর্জাতিক, ভারত

ভারতে নিপাহ্ ভাইরাসের প্রাদুর্ভাব; এশিয়ার বিভিন্ন বিমানবন্দরে করোনার মত স্ক্রিনিং জোরদার

ডিবিসি নিউজ ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে প্রাণঘাতী নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা দেওয়ায় এশিয়ার বিভিন্ন দেশে নতুন করে স্বাস্থ্য আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় থাইল্যান্ড ও নেপালসহ বেশ কিছু দেশ তাদের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে করোনার সময়ের মতো কঠোর স্ক্রিনিং ব্যবস্থা ও সতর্কতা জারি করেছে।

চলতি মাসের শুরুর দিকে পশ্চিমবঙ্গে পাঁচজন স্বাস্থ্যকর্মী এই ভাইরাসে আক্রান্ত হয়েছেন এবং তাঁদের মধ্যে একজন আশঙ্কাজনক অবস্থায় রয়েছেন। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, আক্রান্তরা বারাসাতের একটি বেসরকারি হাসপাতালের সাথে যুক্ত ছিলেন। আক্রান্ত দুই নার্স ইনটেনসিভ করোনারি কেয়ার ইউনিটে চিকিৎসাধীন, যাদের মধ্যে একজনের অবস্থা খুবই সংকটাপন্ন। এছাড়া আক্রান্তদের সংস্পর্শে আসা প্রায় ১১০ জনকে কোয়ারেন্টিনে রাখা হয়েছে।

 

পশ্চিমবঙ্গের পরিস্থিতির কারণে প্রতিবেশী ও এশীয় দেশগুলো সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে সীমান্তে ও বিমানবন্দরে কড়াকড়ি আরোপ করেছে। থাইল্যান্ডের ব্যাংকক ও ফুকেটের তিনটি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পশ্চিমবঙ্গ থেকে আগত ফ্লাইটের যাত্রীদের জন্য বিশেষ স্ক্রিনিং শুরু করা হয়েছে এবং যাত্রীদের স্বাস্থ্য সম্পর্কিত ঘোষণা দিতে বলা হচ্ছে। দেশটির রোগ নিয়ন্ত্রণ বিভাগ জানিয়েছে, প্রাদুর্ভাব ঠেকাতে তারা সর্বোচ্চ সতর্কাবস্থায় রয়েছে। 

 

একইভাবে নেপালও কাঠমান্ডু বিমানবন্দর এবং ভারতের সাথে থাকা স্থল সীমান্ত পয়েন্টগুলোতে যাত্রীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা স্ক্রিনিং শুরু করেছে। পাশাপাশি তাইওয়ানের স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ নিপাহ ভাইরাসকে ‘ক্যাটাগরি ৫ রোগ’ বা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ জরুরি সংক্রমণ হিসেবে তালিকাভুক্ত করার প্রস্তাব করেছে।

 

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) কোভিডের মতো মহামারি সৃষ্টির ক্ষমতার কারণে নিপাহ ভাইরাসকে শীর্ষ দশটি অগ্রাধিকারমূলক রোগের তালিকায় রেখেছে। এই ভাইরাসটি মূলত শূকর ও ফলের বাদুড় থেকে মানুষের মধ্যে ছড়ায়, তবে এটি মানুষ থেকে মানুষেও ছড়াতে পারে। এর সুপ্তিকাল ৪ থেকে ১৪ দিন। সংক্রমণের শুরুতে জ্বর, মাথাব্যথা, পেশি ব্যথা, বমি ও গলা ব্যথা দেখা দেয়। 

 

পরবর্তীতে তন্দ্রাচ্ছন্নতা, নিউমোনিয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে এনসেফালাইটিস বা মস্তিষ্কের প্রদাহ হতে পারে। সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় হলো, বর্তমানে এই রোগের কোনো অনুমোদিত টিকা বা ওষুধ নেই এবং আক্রান্তদের মৃত্যুর হার ৪০% থেকে ৭৫% পর্যন্ত হতে পারে।

 

ভাইরাসটির প্রাদুর্ভাবের ইতিহাস পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, ১৯৯৮ সালে মালয়েশিয়ায় শূকর খামারিদের মধ্যে এটি প্রথম শনাক্ত হয়। বাংলাদেশে ২০০১ সাল থেকে এ পর্যন্ত ১০০ জনেরও বেশি মানুষ এই ভাইরাসে প্রাণ হারিয়েছেন। ভারতেও এর আগে ২০০১ ও ২০০৭ সালে পশ্চিমবঙ্গে এবং সম্প্রতি ২০১৮ ও ২০২৩ সালে কেরালায় নিপাহ ভাইরাসের সংক্রমণ দেখা গিয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতি বিবেচনায় চিকিৎসকরা সবাইকে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন।

 

সূত্র: বিবিসি

 

ডিবিসি/এনএসএফ

আরও পড়ুন