কলকাতা নেতাজি সুভাষচন্দ্র বসু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণের ঠিক আগে লেজার রশ্মির কারণে সাময়িকভাবে দিকভ্রান্ত হলেন মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্সের (এমএইচ-১৮৪) এক পাইলট। ১৫৯ জন যাত্রী নিয়ে আসা বিমানটিকে এর জেরে আকাশে চক্কর কাটতে হয় এবং পরে সেটি নিরাপদে রানওয়েতে অবতরণ করে।
বিমানবন্দর সূত্রের বরাতে জানা যায়, শনিবার রাত ১১টা ২০ মিনিট নাগাদ এই ঘটনা ঘটে। কুয়ালালামপুর থেকে কলকাতাগামী বিমানটি রানওয়ে থেকে প্রায় আট নটিক্যাল মাইল দূরে থাকাকালীন মধ্যমগ্রাম-বারাসাত দিক থেকে আসা একটি আলোর ঝলকানি সরাসরি ককপিটে এসে পড়ে। এর ফলে পাইলট সাময়িকভাবে দিকভ্রান্ত হয়ে পড়েন। পূর্ব নির্ধারিত সূচি অনুযায়ী বিমানটির রাত ১১টা ২০ মিনিটে অবতরণ করার কথা থাকলেও, লেজার-কাণ্ডের জেরে সেটি পাঁচ মিনিট দেরিতে রাত ১১টা ২৫ মিনিটে নিরাপদে অবতরণ করে।
ইতিমধ্যেই ওই বিমান সংস্থার পক্ষ থেকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়েছে। কর্তৃপক্ষের তরফ থেকে এনএসসিবিআই (NSCBI) বিমানবন্দর থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে এবং পুলিশ বর্তমানে ঘটনাটির তদন্ত করছে। সংবাদ সংস্থাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এক প্রবীণ আধিকারিক জানিয়েছেন, বিমানবন্দরের আশপাশে লেজার আলোর ব্যবহার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। তা সত্ত্বেও মাঝে মাঝেই এমন ঘটনা ঘটে যা বিমান চলাচলে প্রভাব ফেলে।
পাইলটদের তরফ থেকে ককপিটে লেজার আলোর প্রভাব নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের ঘটনা এটাই প্রথম নয়। এর আগে ২০২৫ সালের দুর্গাপূজার সময় শ্রীভূমি স্পোর্টিং ক্লাবের মণ্ডপের কাছে ব্যবহৃত লেজার আলো নিয়েও পাইলটরা উদ্বেগ প্রকাশ করেছিলেন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে লেজার শো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
পাশাপাশি, কলকাতা বিমানবন্দরে নিরাপত্তা সংক্রান্ত আরও একটি পুরনো ঘটনার কথা উল্লেখ করা হয়েছে। গত এপ্রিল মাসে কলকাতা বিমানবন্দরে একটি ক্যাটারিং গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে একটি অপেক্ষারত ইন্ডিগো বিমানের ইঞ্জিনে ধাক্কা মেরেছিল। ইন্ডিগোর এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছিল যে, একটি চালকবিহীন থার্ড-পার্টি যান গড়িয়ে গিয়ে তাদের পার্ক করে রাখা বিমানের সংস্পর্শে আসে।
ডিবিসি/আরএসএল