ভারতের ঝাড়খণ্ডে বাবার রেখে যাওয়া ৪৫ লাখ টাকা এবং সরকারি চাকরির লোভে মাকে নৃশংসভাবে হত্যা করেছে পালিত মেয়ে ও তার প্রেমিক। রাঁচির মণিটোলা এলাকার বাসিন্দা নাহিদা পারভীনকে গত ২৪ এপ্রিল রাতে বালিশ চাপা দিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এই হত্যাকাণ্ডে ১৭ বছর বয়সী ওই কিশোরীকে তার ২০ বছর বয়সী প্রেমিক আরবাজ এবং আরবাজের আরও তিন বন্ধু সরাসরি সহযোগিতা করে।
এনডিটিভির খবরে বলা হয়, পুলিশি তদন্তে বেরিয়ে এসেছে যে, নাহিদা পারভীনের স্বামী বিদ্যুৎ বিভাগে কর্মরত ছিলেন। চার বছর আগে তার মৃত্যুর পর তিনি প্রায় ৪৫ লাখ টাকার আর্থিক সহায়তা পান। ওই টাকার নমিনি ছিল পালিত ওই কিশোরী। মেয়েটি প্রায়ই ব্যাংক থেকে টাকা তুলে প্রেমিক আরবাজকে দিত, যা জানতে পেরে নাহিদা পারভীন বাধা দিলে তাদের মধ্যে বিরোধের সৃষ্টি হয়। মূলত টাকা, সম্পত্তি এবং বাবার মৃত্যুর পর অনুকম্পামূলক চাকরির সুযোগ পেতেই তারা এই হত্যার পরিকল্পনা করে।
হত্যাকাণ্ডটি অত্যন্ত সুপরিকল্পিতভাবে কার্যকর করা হয় বলে জানিয়েছে পুলিশ। গত শুক্রবার রাতে নাহিদা পারভীন যখন ঘুমিয়ে ছিলেন, তখন অভিযুক্তরা তাকে বালিশ চাপা দিয়ে এবং হাত-পা চেপে ধরে শ্বাসরোধ করে। ধস্তাধস্তির সময় নিহতের গলায় গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয় এবং অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে পরদিন সকালে কিশোরীটি তার আত্মীয়-স্বজনকে জানায় যে, তার মা বাথরুমে পড়ে গিয়ে মারা গেছেন। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই গত রবিবার জানাজা শেষে মরদেহ দাফন করা হয়। তবে মরদেহের গলায় আঘাতের চিহ্ন দেখে আত্মীয়দের মনে সন্দেহের সৃষ্টি হলে তারা পুলিশের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে দুই দিন পর মরদেহ কবর থেকে তুলে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয় এবং পুলিশ অভিযান চালিয়ে বিহারের গয়া থেকে প্রেমিক আরবাজ ও ওই কিশোরীকে আটক করে। জেরার মুখে কিশোরী স্বীকার করেছে যে, এই খুনের জন্য সে ১২ লাখ টাকা খরচ করেছিল। বর্তমানে এই ঘটনায় জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রেখেছে রাঁচি পুলিশ।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/পিআরএএন