ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতির একটি বিতর্কিত মন্তব্যকে কেন্দ্র করে দেশটিতে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ (Cockroach Janta Party) নামে একটি ব্যঙ্গাত্মক রাজনৈতিক আন্দোলন শুরু হয়েছে। প্রধানত জেনারেশন জেড (Gen Z) বা তরুণ প্রজন্মের হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন অনলাইনে অভিনব এই আন্দোলনে যুক্ত হচ্ছেন।
আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত শুক্রবার এক শুনানিতে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত কর্মহীন তরুণদের ‘পরজীবী’ এবং ‘তেলাপোকা’র সঙ্গে তুলনা করে বলেন, যাদের কোনো কাজ নেই তারা মিডিয়া বা আরটিআই (RTI) কর্মী সেজে সবাইকে আক্রমণ করছে। যদিও পরে তিনি দাবি করেন, তার মন্তব্যটি শুধু জাল ডিগ্রিধারীদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য ছিল। কিন্তু তার এই বক্তব্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বেকারত্ব ও মুদ্রাস্ফীতিতে জর্জরিত তরুণদের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভের সৃষ্টি হয়।
এই ক্ষোভের জেরেই যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটি থেকে সদ্য স্নাতক সম্পন্ন করা অভিজিৎ দিপকে (৩০) নামের এক তরুণ এক্সে (সাবেক টুইটার) মজা করে লেখেন, "সব তেলাপোকা এক হলে কেমন হয়?" এরপরই তিনি ইনস্টাগ্রাম এবং এক্সে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির (ভারতীয় জনতা পার্টি) নামের সঙ্গে মিল রেখে ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ নামে অ্যাকাউন্ট ও ওয়েবসাইট খোলেন। মাত্র তিন দিনে এর ইনস্টাগ্রাম অনুসারী ৩০ লাখ ছাড়িয়েছে এবং গুগল ফর্মের মাধ্যমে সাড়ে তিন লাখেরও বেশি মানুষ দলটির সদস্যপদ নিয়েছেন। বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্য মহুয়া মৈত্র, কীর্তি আজাদ থেকে শুরু করে সাবেক আমলারাও এর সদস্য হয়েছেন।
দলটির সদস্য হওয়ার ব্যঙ্গাত্মক শর্ত হিসেবে 'বেকার, অলস এবং সারাদিন অনলাইনে থাকা'র কথা বলা হয়েছে। তবে দলটির ম্যানিফেস্টোতে মূলত ভোট কারচুপি, কর্পোরেট মিডিয়ার নতজানু নীতি এবং বিচারকদের অবসরের পর সরকারি নিয়োগের মতো গুরুতর বিষয়গুলোকে কটাক্ষ করা হয়েছে।
বিশ্লেষক ও অধিকারকর্মীরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ১২ বছরের শাসনামলে বেকারত্ব, প্রশ্নফাঁস এবং জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে তরুণদের মধ্যে যে দীর্ঘদিনের হতাশা জমেছিল, তারই বহিঃপ্রকাশ এই ব্যঙ্গাত্মক দল। নিছক একটি জোকস থেকে শুরু হওয়া এই ‘তেলাপোকা জনতা পার্টি’ এখন ভারতীয় রাজনীতিতে তরুণদের বিকল্প খোঁজার এবং প্রতিবাদ জানানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
ডিবিসি/পিআরএএন