আন্তর্জাতিক, ভারত

ভারতে বাংলা বলার কারণে ট্রেন থেকে নামিয়ে দেওয়া হল ৩ বাঙালি কিশোরকে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

সোমবার ১৯শে জানুয়ারী ২০২৬ ০১:০৭:২০ অপরাহ্ন
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

জীবন-জীবিকার তাগিদে ভিনরাজ্যে কাজে যাওয়ার পথে চরম হেনস্তার শিকার হয়েছে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের তিন কিশোর। অভিযোগ উঠেছে, পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে হিন্দি বলতে না পেরে নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলায় ছত্তিশগড় স্টেশনে তাদের ট্রেন থেকে নামিয়ে আটকে রাখা হয়েছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কেতুগ্রামের ঝামটপুর গ্রামের তিন কিশোর কার্তিক দাস (১৬), রাকেশ দাস ও রতন দাস গত শুক্রবার গুজরাটের সুরাটে একটি রুটির কারখানায় কাজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। কার্তিক ও রাকেশ দুজনেই নবম শ্রেণির ছাত্র। মোট ৯ জনের একটি দলের সঙ্গে তারা পাড়ি দিয়েছিল। কিন্তু শনিবার সন্ধ্যায় পরিবারের কাছে খবর আসে, ছত্তিশগড়ের রায়পুর স্টেশনে রেল পুলিশ (জিআরপি) তাদের তিনজনকে আটক করেছে।

 

পরিবারের অভিযোগ, ট্রেনের ভেতরে পুলিশ যখন জিজ্ঞাসাবাদ শুরু করে, তখন ওই কিশোররা হিন্দিতে ঠিকমতো উত্তর দিতে পারছিল না। তারা নিজেদের মধ্যে বাংলায় কথা বলা শুরু করলে পুলিশ তাদের সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করে এবং জোরপূর্বক ট্রেন থেকে নামিয়ে দেয়। 

 

যদিও ওই দলের অন্য একজন সদস্য ফোনে জানিয়েছেন, তারা অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় এবং তাৎক্ষণিকভাবে বয়সের সঠিক প্রমাণপত্র দেখাতে না পারায় তাদের আটক করা হয়েছে। তবে পরিবারের দাবি, মূল সমস্যা হয়েছে ভাষা নিয়ে।

 

এই ঘটনা প্রকাশ্যে আসতেই পশ্চিমবঙ্গের রাজনৈতিক অঙ্গন উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। স্থানীয় তৃণমূল কংগ্রেস নেতৃত্ব অভিযোগ করেছে, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে পরিকল্পিতভাবে বাঙালিদের ওপর ভাষাগত নিগ্রহ চালানো হচ্ছে।

 

কেতুগ্রামের বিধায়ক শেখ শাহনাওয়াজ এ ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে বলেন, বিজেপি শাসিত রাজ্যগুলোতে বাঙালি শ্রমিকদের ওপর অত্যাচার বাড়ছে। আমরা প্রশাসনিকভাবে যোগাযোগ করছি যাতে ওই কিশোরদের দ্রুত ও নিরাপদে ফিরিয়ে আনা যায়।

 

আটক হওয়া কার্তিক ও রাকেশের পরিবার অত্যন্ত দরিদ্র। অভাবের তাড়নায় পড়াশোনার পাশাপাশি একটু বাড়তি আয়ের আশায় তারা সুরাটে যাচ্ছিল। কিন্তু মাঝপথে এমন বিপদে পড়ায় কান্নায় ভেঙে পড়েছেন তাদের স্বজনরা। বর্তমানে স্থানীয় প্রশাসন ও বিধায়ক ওই কিশোরদের মুক্তির জন্য ছত্তিশগড় পুলিশের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রক্ষা করছেন।

 

তথ্যসূত্র সংবাদ প্রতিদিন

 

ডিবিসি/এমইউএ

আরও পড়ুন