ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের বাজেট প্রস্তাবের পরই রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির শেয়ার বাজারে বড়সড় ধস নেমেছে। বাজেটে ফিউচার্স অ্যান্ড অপশনস বা আগাম লেনদেনে সিকিউরিটিজ ট্রানজ্যাকশন ট্যাক্স বৃদ্ধির ঘোষণার পরেই বিনিয়োগকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এর ফলে চোখের পলকে বাজার থেকে প্রায় ১০ লক্ষ কোটি রুপির সম্পদ মুছে গেছে। গত ছয় বছরের মধ্যে বাজেটের দিনে এটিই ভারতীয় শেয়ার বাজারের সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতি।
প্রচণ্ড অস্থিরতার মধ্যে ৩০ শেয়ারের বিএসই সেনসেক্স ১,৫,৪৬.৮৪ পয়েন্ট বা ১.৮৮ শতাংশ কমে ৮০,০০০-এর নিচে লেনদেন শেষ করে। অন্যদিকে, নিফটি ৫০ সূচক ৪৯৫ পয়েন্ট বা ১.৯৫ শতাংশ কমে ২৫,০০০-এর নিচে বন্ধ হয়েছে। বিএসই-তে মোট ২,৩৭৫টি শেয়ারের দাম কমেছে, যেখানে ১,৭৫৯টি বেড়েছে এবং ১৭৫টি শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। সেনসেক্সের অন্তর্ভুক্ত সংস্থাগুলোর মধ্যে স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া, ভারত ইলেকট্রনিক্স, আইটিসি, টাটা স্টিল, আল্ট্রাটেক সিমেন্ট এবং রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ বড় ক্ষতির মুখে পড়েছে। তবে এই পতনের বাজারেও টিসিএস, ইনফোসিস এবং সান ফার্মা কিছুটা লাভের মুখ দেখেছে।
বাজেট বক্তৃতায় অর্থমন্ত্রী এফঅ্যান্ডও সেগমেন্টে এসটিটি বাড়ানোর প্রস্তাব দেন, যেখানে ফিউচার কন্ট্রাক্টের ওপর কর ০.০২ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ০.০৫ শতাংশ এবং অপশনের ওপর তা বাড়িয়ে ০.১৫ শতাংশ করার কথা বলা হয়েছে। বাজেট পেশের কারণে রবিবার শেয়ার বাজার খোলা থাকলেও ঋণ এবং বৈদেশিক মুদ্রার বাজার বন্ধ ছিল। বিশেষজ্ঞদের মতে, এফঅ্যান্ডও-তে এই কর বৃদ্ধি স্বল্পমেয়াদে বাজারের জন্য নেতিবাচক। অ্যাক্সিস সিকিউরিটিজ ও চয়েস ইক্যুইটি ব্রোকিং-এর মতো সংস্থার বিশ্লেষকরা মনে করছেন, গত বছর মূলধনী লাভ কর বাড়ানোর পর এবার এসটিটি বৃদ্ধি লগ্নিকারীদের সামগ্রিক লেনদেন খরচ আরও বাড়িয়ে দেবে, যা বিদেশি বিনিয়োগ প্রবাহেও প্রভাব ফেলতে পারে।
গত বাজেটের পর থেকে নিফটি ৫০ মাত্র ৭.৮ শতাংশ বেড়েছে, যা এশিয়ার অন্যান্য বাজারের তুলনায় বেশ কম। রেকর্ড পরিমাণ বিদেশি বিনিয়োগ প্রত্যাহার এবং করপোরেট আয় আশানুরূপ না হওয়া এর অন্যতম কারণ। তবে, জিএসটি এবং সুদের হার কমানোর মতো নীতিগত পদক্ষেপের ফলে আয় ও চাহিদায় কিছুটা উন্নতি হয়েছে। এর আগে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত অর্থনৈতিক সমীক্ষা অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে (২০২৬-২৭) ভারতের জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৬.৮ শতাংশ থেকে ৭.২ শতাংশের মধ্যে থাকার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এনএসএফ