ভারতের কর্ণাটকে পরিবারের পছন্দের পাত্রের সঙ্গে বিয়েতে অমত থাকায় নিজের ১৭ বছর বয়সী মেয়েকে কূপে ফেলে ও পাথর ছুঁড়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে বাবার বিরুদ্ধে। কর্ণাটকের তুমাকুরু জেলার শিরা তালুকের নিম্বেমাড়াদাহল্লি গ্রামে এই মর্মান্তিক ঘটনাটি ঘটে। নিহত ওই কিশোরীর নাম মেঘনা।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, গত ১৬ এপ্রিল থেকে মেঘনা নিখোঁজ ছিল। ওই দিন সন্ধ্যায় তার মা নির্মলা দিনমজুরের কাজ থেকে ফিরে মেয়েকে বাড়িতে না পেয়ে এবং মোবাইল বন্ধ পেয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি করেন। এরপর মেঘনাকে খুঁজতে তৎপর হয় পুলিশ।
তদন্তকারী কর্মকর্তা জানিয়েছেন, মেঘনার বিয়ে নিয়ে পরিবারে দীর্ঘদিন ধরে কলহ চলছিল। মেঘনার মা ও তার পরিবারের সদস্যরা চাচ্ছিলেন ১৮ বছর পূর্ণ হলে এক আত্মীয়ের ছেলের সঙ্গে তার বিয়ে দিতে। পাত্রপক্ষ বিয়ের জন্য শাড়ি ও মঙ্গলসূত্রও কিনে রেখেছিল। কিন্তু মেঘনার বাবা থিম্মারায়াপ্পা স্ত্রীর আত্মীয়ের সঙ্গে এই বিয়ের তীব্র বিরোধী ছিলেন। এ নিয়ে গত চার-পাঁচ মাস ধরে তাদের মধ্যে প্রায়ই বিবাদ হতো।
এমন বিবাদের পরের দিনই মেঘনা নিখোঁজ হয়। এক পর্যায়ে তার বাবাও হঠাৎ গা ঢাকা দিলে পুলিশের সন্দেহ বাড়ে। পরবর্তীতে পুলিশের জেরার মুখে থিম্মারায়াপ্পা নিজের মেয়েকে হত্যার কথা স্বীকার করেন।
পুলিশ ধারণা করছে, থিম্মারায়াপ্পা প্রথমে মেঘনাকে একটি কূপে ফেলে তার ওপর পাথর ছুঁড়ে মারেন। এভাবে মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তিনি কূপ থেকে লাশটি তুলে একটি নির্জন স্থানে নিয়ে মাটি চাপা দেন।
চাঞ্চল্যকর বিষয় হলো, হত্যার পর নিজের ওপর থেকে সন্দেহ এড়াতে থিম্মারায়াপ্পা নিজেই স্ত্রীর সঙ্গে থানায় গিয়ে নিখোঁজ ডায়েরি করতে সহায়তা করেছিলেন।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/আরএসএল