ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মালদহ জেলার পান্ডুয়া এলাকায় অবস্থিত প্রায় সাড়ে ছয়শ বছরের পুরোনো ঐতিহাসিক আদিনা মসজিদকে ঘিরে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে। ‘আদিনাথ পুরাতন শিব মন্দির’ নামের একটি হিন্দু ডানপন্থি সংগঠন স্থাপনাটিকে মন্দির দাবি করে এর পাশে পূজা-অর্চনা শুরু করেছে। বিজেপি নেতার নেতৃত্বাধীন ওই সংগঠনটি আগামী সোমবার (২৭ জুলাই) মসজিদের বাইরে বড় ধরনের একটি শিবলিঙ্গ স্থাপনের পরিকল্পনাও করছে।
ভারতের প্রত্নতাত্ত্বিক জরিপ বিভাগের (এএসআই) তথ্য অনুযায়ী, ১৩৭৩ সালে সুলতান সিকান্দার শাহ এই আদিনা মসজিদটি নির্মাণ করেছিলেন। মধ্যযুগে এটি পুরো উপমহাদেশের সবচেয়ে বড় মসজিদ ছিল। তবে হিন্দু ডানপন্থি সংগঠন ও বিজেপির দাবি, মসজিদটি মূলত শিবের জন্য উৎসর্গকৃত ‘আদিনাথ মন্দিরের’ জায়গায় নির্মিত হয়েছিল। ‘আদিনাথ পুরাতন শিব মন্দির’ সংগঠনটির দাবি, ঐতিহাসিক ওই মসজিদে একটি শিবলিঙ্গ ছাড়াও বহু হিন্দু ও বৌদ্ধ প্রতীক বিদ্যমান রয়েছে। এই দাবির ভিত্তিতে এএসআইয়ের প্রতিবেদন চেয়ে শিগগিরই কলকাতা হাইকোর্টে আবেদন করার কথা জানিয়েছে তারা।
এর আগে ২০২৫ সালের ৫ ডিসেম্বর পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের কয়েক মাস আগে হিন্দুত্ববাদী বিজেপিদলীয় রাজ্যসভার সদস্য ও বর্তমান রাজ্য সভাপতি সমীক ভট্টাচার্য বিষয়টি সংসদে উত্থাপন করেছিলেন। সে সময় তিনি দাবি করেন, বাংলার সুলতান সিকান্দার শাহ আগে থেকেই সেখানে থাকা হিন্দু ও বৌদ্ধ স্থাপনার উপকরণ ব্যবহার করে মসজিদটি নির্মাণ করেন। স্থানীয় জনশ্রুতি এবং মসজিদের ভেতরে থাকা হিন্দু প্রতীক ও স্থাপত্যও সেখানে আগে শিব ও বিষ্ণুর মন্দির থাকার দাবিকে সমর্থন করে বলে তিনি উল্লেখ করেন।
অন্যদিকে, ভারতের কমিউনিস্ট পার্টির (সিপিআই-এম) রাজ্য সম্পাদক ও পলিটব্যুরো সদস্য মহম্মদ সেলিম এই পরিস্থিতিকে বিজেপির একটি রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে দেখছেন। তার মতে, বিজেপি বা আরএসএস সুযোগ পেলেই ধর্মীয় কার্যকলাপ টেনে এনে এ ধরনের কর্মকাণ্ড শুরু করে। আদিনা মসজিদকে ঘিরে এই বিতর্ক মূলত তাদের সংঘাত ও বিভাজন তৈরির অপচেষ্টারই সর্বশেষ উদাহরণ।
সূত্র: দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ডিবিসি/এফএইচআর