ভারত

ভারতে মহিষের আসল মালিক কে জানতে ডিএনএ পরীক্ষার নির্দেশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

চুরি, সহিংসতা কিংবা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি সামলানো পুলিশের নিত্যদিনের কাজ। তবে বিহারের গয়া পুলিশ এবার পড়েছে এক ব্যতিক্রমী সমস্যায়। দুই গ্রামবাসীর মধ্যে একটি মহিষের মালিকানা নিয়ে তীব্র বিরোধের নিষ্পত্তি করতে এবার প্রাণীটির ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

পুলিশের ইন্সপেক্টর জেনারেল (আইজি) বিকাশ বৈভব গয়া (গ্রামীণ)-এর পুলিশ সুপার দিব্যাঞ্জলি জয়সওয়ালকে বিষয়টি বিস্তারিতভাবে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। বর্তমানে বিতর্কিত মহিষটি সুরজ যাদব নামে এক ব্যক্তির বাড়িতে রয়েছে। সুরজ দাবি করছেন, তিনিই প্রাণীটির প্রকৃত মালিক।

 

আইজি বিকাশ বৈভব জানিয়েছেন, উভয় পক্ষই মহিষটির মালিকানা দাবি করায় বৈজ্ঞানিক উপায়ে বিষয়টির নিষ্পত্তির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এজন্য মহিষটির ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তার মায়ের ডিএনএর সঙ্গে মিলিয়ে দেখা হবে।

 

তিনি বলেন, মহিষটির মা এখনও জীবিত এবং বর্তমানে অন্য এক গ্রামবাসীর বাড়িতে রয়েছে। ফলে মা ও সন্তানের ডিএনএ নমুনা তুলনার মাধ্যমে মহিষটির বংশপরিচয় নিশ্চিত করা গেলে মালিকানা-সংক্রান্ত দাবির তদন্তেও তা গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ হিসেবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

 

ঘটনার সূত্রপাত প্রায় এক সপ্তাহ আগে। উত্তর গ্রামের বাসিন্দা সুরজ যাদব অত্রি থানায় অভিযোগ করেন, তার মহিষটি চুরি হয়ে গেছে। তদন্তে পুলিশ পার্শ্ববর্তী নৌরঙ্গা গ্রামের প্রকাশ মাঞ্জির বাড়িতে একটি মহিষের সন্ধান পায়। পরে সেটি সুরজের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

 

কিন্তু এর পরই ঘটনা নতুন মোড় নেয়। প্রকাশ মাঞ্জি থানায় গিয়ে দাবি করেন, মহিষটি আসলে তারই। এরপর পুলিশ সুরজের বাড়ি থেকে প্রাণীটিকে আবার থানায় নিয়ে আসে এবং দুই দিন সেখানে রাখে। থানার ভেতরে রাখা মহিষটির ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে ঘটনাটি ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

 

পরে নতুন করে তদন্তের পর পুলিশ মহিষটিকে আবার সুরজের কাছে ফিরিয়ে দেয়।

 

মহিষের মালিকানা নিয়ে বিরোধের পাশাপাশি ঘটনাটি আইনি জটিলতাও তৈরি করেছে। প্রকাশ মাঞ্জি অত্রি থানায় সুরজ যাদবের বিরুদ্ধে তফসিলি জাতি ও তফসিলি উপজাতি (অত্যাচার প্রতিরোধ) আইনের আওতায় অভিযোগ দায়ের করেছেন।

 

বাথানি এলাকার ডিএসপি সুরেন্দ্র কুমার জানিয়েছেন, মহিষটির মালিকানা নিয়ে বাদানুবাদের সময় সুরজ মাঞ্জিকে উদ্দেশ করে জাতিগত বিদ্বেষমূলক মন্তব্য করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সেই অভিযোগের ভিত্তিতেই সংশ্লিষ্ট আইনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

 

মঙ্গলবার বিষয়টি আইজি বিকাশ বৈভবের কার্যালয় পর্যন্ত গড়ায়। আরজেডির সাবেক বিধায়ক অজয় যাদব আইজির সঙ্গে সাক্ষাৎ করে ঘটনাটি খতিয়ে দেখার অনুরোধ জানান।

 

সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এটি মূলত একটি মহিষের মালিকানা নিয়ে সাধারণ বিরোধ। অথচ সুরজের বিরুদ্ধে এসসি/এসটি আইনের বিভিন্ন ধারায় মামলা হয়েছে। মামলা লড়তে যে অর্থ খরচ হবে, তা দিয়ে সে একটি নতুন মহিষই কিনতে পারত।’

 

বিহার পুলিশের কাছে পশু নিয়ে অস্বাভাবিক অভিযোগ আসার ঘটনা অবশ্য এটিই প্রথম নয়।

 

প্রায় দুই বছর আগে পূর্ণিয়ায় এক ব্যক্তি একটি ষাঁড়কে গ্রেপ্তার করার দাবি নিয়ে থানায় হাজির হয়েছিলেন। তার অভিযোগ ছিল, ষাঁড়টি তাকে তাড়া করে শিং দিয়ে আঘাত করে মাটিতে ফেলে দেয়। এতে তিনি আহত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হন। পরে পুলিশ সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোকে ডেকে সমঝোতার ব্যবস্থা করলে অভিযোগটি প্রত্যাহার করা হয়।

 

একই জেলার আরেক ঘটনায়, একটি মা ছাগলকে ধরে ঘরে আটকে রাখার কারণে তার তিনটি ছাগলছানার মৃত্যু হয়েছে এমন অভিযোগও তদন্ত করেছিল পুলিশ।

 

তবে গয়ার বর্তমান ঘটনাটি ভিন্ন মাত্রা পেয়েছে ডিএনএ পরীক্ষার সিদ্ধান্তে। তদন্তকারীদের আশা, বৈজ্ঞানিক পরীক্ষার ফল পাওয়া গেলে মহিষটির প্রকৃত বংশপরিচয় স্পষ্ট হবে এবং দীর্ঘায়িত মালিকানা-বিরোধেরও অবসান ঘটতে পারে।

 

সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া

 

ডিবিসি/এমএনকে

আরও পড়ুন