দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জ এলাকায় চিকিৎসার কথা বলে ডেকে নিয়ে গিয়ে নিজের ৩৮ বছর বয়সী সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত ছেলেকে হত্যার অভিযোগ উঠল এক বাবার বিরুদ্ধে। দক্ষিণ দিল্লির কালিন্দী কুঞ্জে দিল্লি-মুম্বাই এক্সপ্রেসওয়ের কাছে একটি পরিত্যক্ত শিপিং কন্টেইনারের ভেতর থেকে গত ২৩শে আগস্ট সকালে গুল হাসান নামের ওই যুবকের রক্তাক্ত মৃতদেহ উদ্ধার করে পুলিশ। এই মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় নিহতের ৬৪ বছর বয়সী বাবা এবং তাঁর ৪৯ বছর বয়সী এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা ও সিজোফ্রেনিয়ায় ভোগা ছেলে গুল হাসানকে চিকিৎসার জন্য ডাক্তারের কাছে নিয়ে যাওয়ার অজুহাতে ওই পরিত্যক্ত কন্টেইনারের কাছে নিয়ে যান অভিযুক্ত বাবা। সেখানে সহযোগীর সঙ্গে মিলে তিনি প্রথমে ভারী পাথর দিয়ে ছেলের মাথায় আঘাত করেন এবং পরে শ্বাসরোধ করে তাঁর মৃত্যু নিশ্চিত করেন। পুলিশের কাছে জেরার মুখে অভিযুক্ত বাবা স্বীকার করেছেন যে, ছেলের দীর্ঘস্থায়ী মানসিক অসুস্থতার কারণেই তিনি এই চরম পদক্ষেপ নিয়েছেন।
দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লির ডেপুটি কমিশনার অফ পুলিশ (ডিসিপি) বিনীত কুমার জানান, গত ২৩শে আগস্ট সকাল ৭টা ১৩ মিনিটে কালিন্দী কুঞ্জ থানায় খবর আসে যে ন্যাশনাল থার্মাল পাওয়ার কর্পোরেশনের (এনটিপিসি) সীমানা প্রাচীর সংলগ্ন একটি কন্টেইনারে এক অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তির মৃতদেহ পড়ে আছে। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে মাথায় গুরুতর আঘাতপ্রাপ্ত অবস্থায় মৃতদেহটি উদ্ধার করে। এরপরই ভারতীয় ন্যায় সংহিতা (বিএনএস) আইনে একটি হত্যা মামলা দায়ের করা হয় এবং তদন্তের জন্য সরিতা বিহারের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসিপি) অনিল কুমার শর্মার নেতৃত্বে চারটি বিশেষ দল গঠন করা হয়।
তদন্তে নেমে পুলিশ আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করে দেখতে পায়, নিহতের সঙ্গে দুজন ব্যক্তি ঘটনাস্থলের দিকে যাচ্ছেন, কিন্তু কিছুক্ষণ পর ওই দুজন একাই ফিরে আসছেন। এই সূত্রের ওপর ভিত্তি করে দক্ষিণ দিল্লির গোবিন্দপুরীর একটি সেলাই কারখানা থেকে সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তার করা হয়। পুলিশ জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের পুঙ্খানুপুঙ্খ ঘটনাপ্রবাহ এবং এর পেছনের অন্যান্য কারণ খতিয়ে দেখতে অভিযুক্তদের আরও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। পাশাপাশি, ঘটনার বিস্তারিত নিশ্চিত হতে পুলিশ বর্তমানে ময়নাতদন্তের চূড়ান্ত প্রতিবেদনের অপেক্ষায় রয়েছে।
সূত্র: হিন্দুস্তান টাইমস
ডিবিসি/পিআরএএন