প্রায় দুই সপ্তাহ ধরে যাত্রীদের ভিড়ে সাধারণ কর্মজীবীদের মতোই বাসে যাতায়াত করছিলেন তাঁরা। সাদা পোশাকে থাকা এই পুলিশ সদস্যদের দেখে বোঝার কোনো উপায় ছিল না যে তাঁরা পকেটমারদের ধরতে ছদ্মবেশ ধারণ করেছেন। অবশেষে তাঁদের এই ধৈর্য কাজে আসে। শিবাজিনগরের কাছে একটি ভিড় বাসে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে তৈরি করা স্কেচের সঙ্গে মিল থাকা দুই সন্দেহভাজনকে বাসে উঠতে দেখে শনাক্ত করেন এক ছদ্মবেশী কর্মকর্তা। যাত্রীদের মধ্যে কোনো আতঙ্ক না ছড়িয়ে অত্যন্ত সন্তর্পণে ওই দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
চলতি মাসের শুরুতে পর পর তিনটি পকেটমারির ঘটনার অভিযোগ পাওয়ার পর এই অভিযান শুরু হয়। প্রথম দুটি ঘটনায় ব্যস্ত সময়ে যাত্রীরা তাঁদের মোবাইল ফোন হারান। তৃতীয় ঘটনায় ৮৪ বছর বয়সী পেনশনভোগী নরসিমহাইয়া কে. বাসে ওঠার আগে নিজের মাসিক খরচের জন্য ব্যাংক থেকে ৩৫ হাজার টাকা তুলেছিলেন, যা যাত্রাপথে চুরি হয়ে যায়। তদন্তকারীরা দেখতে পান, এই চক্রটি মূলত শহরের কেন্দ্রস্থলের দিকে যাওয়া ভিড় বাসগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করত। শিবাজিনগর এবং অন্যান্য পূর্বাঞ্চলীয় এলাকার সঙ্গে শহরের মূল বাণিজ্যিক এলাকার সংযোগকারী রুটগুলোতেই তারা বেশি সক্রিয় ছিল। পুলিশের এক কর্মকর্তা জানান, যাত্রীদের বাসে ওঠা ও নামার সময়, বিশেষ করে ভিড় থাকা বাস স্টপেজগুলোতে যাত্রীদের কাঁধে কাঁধ ঘষাঘষির সুযোগকে কাজে লাগাত সন্দেহভাজনরা।
ডিসিপি (সেন্ট্রাল) অক্ষয় মাচিন্দ্রা হাকায় এই মামলাগুলোর তদন্তের জন্য বিধান সৌধ থানার চার সদস্যের একটি বিশেষ দল গঠন করেন। কর্মকর্তারা প্রথমে চুরি হওয়া বাসগুলোর সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ করেন। ফুটেজের ছবি এবং ভুক্তভোগীদের বর্ণনার ভিত্তিতে তৈরি করা স্কেচ ব্যবহার করে তাঁরা নিয়মিত তল্লাশির পরিবর্তে ছদ্মবেশে নজরদারির পরিকল্পনা করেন। ১০ দিনেরও বেশি সময় ধরে সাদা পোশাকে একজন কর্মকর্তা প্রতিদিন নির্দিষ্ট বিএমটিসি রুটগুলোতে যাতায়াত করতেন। তাঁরা বিভিন্ন স্থান থেকে বাসে উঠে সাধারণ যাত্রীদের সঙ্গে মিশে যেতেন এবং কর্পোরেশন বাস স্টপ পর্যন্ত বাসে অবস্থান করে যাত্রীদের গতিবিধির ওপর তীক্ষ্ণ নজর রাখতেন। সন্দেহভাজনদের সতর্ক না করে চারজন কর্মকর্তা পালাক্রমে এই নজরদারির দায়িত্ব পালন করেন। অবশেষে স্কেচের সঙ্গে হুবহু মিল থাকা দুই ব্যক্তিকে চিনে ফেলেন এক কর্মকর্তা। পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তারকৃত দুজনের নাম আনোয়ার পাশা (৫৫) এবং মোবারক (৩০)। আনোয়ার জেজে নগরের এবং মোবারক কেনগেরির বাসিন্দা।
পুলিশের মতে, জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তারকৃতরা তাদের চক্রের ব্যবহৃত বেশ কয়েকটি পদ্ধতির কথা স্বীকার করেছে। বিশেষ করে যাত্রীরা যখন ভিড় স্টপেজগুলোতে নামার প্রস্তুতি নিতেন, তখনই তারা চুরি করত। ভিড়ের মধ্যে যাত্রীদের ধাক্কাধাক্কির সুযোগ নিয়ে চক্রের সদস্যরা মানিব্যাগ এবং মোবাইল ফোন সরিয়ে ফেলত। এই চক্রের অন্যতম একটি কৌশল ছিল মনোযোগ ঘোরানো। চক্রের একজন সদস্য বাসের জানালা দিয়ে বমি করার ভান করে আতঙ্ক ও বিভ্রান্তি তৈরি করত। সহযাত্রীরা স্বাভাবিকভাবেই দূরে সরে গেলে বা সেই দিকে তাকালে, চক্রের অন্য সদস্য দ্রুত তাদের শার্টের পকেটে থাকা মোবাইল ফোন বা মূল্যবান জিনিসপত্র চুরি করে নিত। পুলিশ সন্দেহ করছে, এই চক্রের আরও সদস্য পলাতক রয়েছে এবং তাদের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: টাইমস অব ইন্ডিয়া
ডিবিসি/আরএসএল