আন্তর্জাতিক, ভারত

ভারতে যৌতুক না পেয়ে গৃহবধূকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যার অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বিয়ের মাত্র ১৭ মাসের মাথায় ভারতের গ্রেটার নয়ডায় ২৫ বছর বয়সী এক গৃহবধূর রহস্যজনক মৃত্যুকে কেন্দ্র করে চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে। নিহত গৃহবধূর নাম দীপিকা নগর। তাঁর পরিবারের দাবি, অতিরিক্ত যৌতুকের দাবিতে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন চালিয়ে দীপিকাকে ছাদ থেকে ফেলে হত্যা করেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন। এই ঘটনায় দীপিকার স্বামী ঋতিক তানওয়ার এবং শ্বশুর মনোজকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

রবিবার (১৭ মে) রাতে গ্রেটার নয়ডার ইকোটেক-৩ থানা এলাকার জলপুরা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। পুলিশ জানায়, এক নারী ছাদ থেকে নিচে পড়ে গেছেন বলে খবর পেয়ে তাদের টহল দলের সদস্যরা ঘটনাস্থলে গিয়ে দীপিকার মরদেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিকভাবে পুলিশ বিষয়টিকে ছাদ থেকে লাফিয়ে আত্মহত্যা করেছে বলে উল্লেখ করলেও নিহতের পরিবার একে সরাসরি ‘পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড’ বলে দাবি করেছে।

 

দীপিকার বাবা সঞ্জয় নাগর জানান, ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে মেয়ের বিয়েতে তিনি নগদ ১১ লাখ টাকা, ৫০ লাখ টাকার সোনা, আসবাবপত্র এবং একটি স্করপিও গাড়ি দিয়েছিলেন। সব মিলিয়ে বিয়ের পেছনে প্রায় ১ কোটি টাকা খরচ হয়েছিল। কিন্তু বিয়ের তিন-চার মাস পর থেকেই শ্বশুরবাড়ির লোকজন আরও ৫১ লাখ টাকা এবং একটি ফরচুনার গাড়ির দাবিতে দীপিকার ওপর নির্যাতন শুরু করে। লোকলজ্জা এবং মেয়ের সংসার টিকিয়ে রাখার স্বার্থে এতদিন তারা পুলিশে অভিযোগ করেননি।

 

তিনি আরও জানান, ঘটনার দিন রবিবারও দীপিকা ফোনে কেঁদে কেঁদে তাঁর ওপর হওয়া নির্যাতনের কথা জানান। খবর পেয়ে বাবা ও কয়েকজন আত্মীয় ওইদিন সন্ধ্যায় জামাইয়ের বাড়িতে গিয়ে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টাও করেন। কিন্তু তাঁরা বাড়ি ফেরার পরপরই, রাত সাড়ে বারোটার দিকে খবর পান যে দীপিকা ছাদ থেকে পড়ে গেছেন।

 

হাসপাতালে মেয়ের শরীরে ধারালো অস্ত্রের চিহ্ন এবং নাক-কান দিয়ে রক্ত পড়তে দেখার কথা উল্লেখ করে নিহতের বাবা দাবি করেন, মারধর করে মেরে ফেলার পর আত্মহত্যার নাটক সাজাতে দীপিকাকে ছাদ থেকে নিচে ফেলে দেওয়া হয়েছে। 

 

সেন্ট্রাল নয়ডার ডেপুটি পুলিশ কমিশনার শৈলেন্দ্র কুমার সিং জানিয়েছেন, নিহতের পরিবারের অভিযোগের ভিত্তিতে দীপিকার স্বামী ও শ্বশুরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পেয়ে এ বিষয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন