আন্তর্জাতিক, ভারত

ভারতে স্বামীকে হত্যা করে নাড়িভুঁড়ি ব্যাগে ভরছিল স্ত্রী, দেখে ফেলেন বাড়িওয়ালা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

ভারতের হরিয়ানার কুরুক্ষেত্রে এক নারী তার স্বামীকে হত্যার পর পেট চিরে অভ্যন্তরীণ অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বের করে নিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। পরবর্তীতে প্রত্যক্ষদর্শীকে দেখে আতঙ্কে ওই নারী ভাড়া বাসার ছাদ থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে গুরুতর আহত হন। কুরুক্ষেত্রের পেহোয়া রোডের রাজ প্যালেস সংলগ্ন একটি ভাড়া বাড়িতে এই ঘটনা ঘটে।

বাড়ির মালিক রিঙ্কু জানান, ঘটনার দিন বিকেল আনুমানিক পাঁচটার দিকে তিনি রাজেশ ও তার স্ত্রী বিমলা দেবীর ঘর থেকে প্রচণ্ড চিৎকার-চেঁচামেচি শুনতে পান। ঝগড়ার আওয়াজ শুনে তিনি দ্রুত দোতলার ছাদে গেলে এক বিভীষিকাময় দৃশ্যের মুখোমুখি হন।

 

ঘটনাস্থলে গিয়ে তিনি দেখেন, রাজেশ রক্তাক্ত অবস্থায় মেঝেতে পড়ে আছেন এবং তার পেটে গভীর ক্ষত। তিনি করেন, অভিযুক্ত বিমলা দেবী নিহতের দেহ থেকে বেরিয়ে আসা নাড়িভুঁড়ি একটি ব্যাগে ভরার চেষ্টা করছেন। বাড়িওয়ালাকে সেখানে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখে ওই নারী হঠাৎ ঘাবড়ে যান এবং সঙ্গে সঙ্গে ছাদ থেকে নিচে ঝাঁপ দেন।

 

ছাদ থেকে পড়ে মারাত্মকভাবে আঘাতপ্রাপ্ত বিমলা দেবীকে উদ্ধার করে দ্রুত স্থানীয় হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। বর্তমানে চিকিৎসাধীন থাকা অভিযুক্ত নারীর জবানবন্দি নেওয়ার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে পুলিশ।

 

নিহত রাজেশ ভারতের উত্তর প্রদেশের সীতাপুর জেলার ধামপুর গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি প্রায় এক বছর ধরে স্ত্রীসহ কুরুক্ষেত্রে বাস করছিলেন এবং স্থানীয় একটি পানি সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত ছিলেন।

 

ময়নাতদন্তের প্রাথমিক প্রতিবেদনে হত্যাকাণ্ডের ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। ধারালো অস্ত্রের আঘাতে রাজেশের পেট প্রায় ৩৫ সেন্টিমিটার চিরে ফেলা হয়, যার ফলে তার নাড়িভুঁড়ি বাইরে বেরিয়ে আসে। এছাড়া চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, নিহতের যকৃত বা লিভারের একটি বড় অংশ এবং ডান কিডনি শরীর থেকে নিখোঁজ রয়েছে। পুলিশ এই অঙ্গহানির বিষয়টি বিশেষভাবে খতিয়ে দেখছে।

 

পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে বিভিন্ন আকারের তিনটি ধারালো ছুরি ও প্রয়োজনীয় ফরেনসিক আলামত উদ্ধার করেছে। স্টেশন হাউস অফিসার সুরিন্দর সিংয়ের নেতৃত্বে একটি বিশেষ তদন্তকারী দল পুরো এলাকাটি ঘিরে তল্লাশি চালিয়েছে।

 

বাড়িওয়ালার দাবি, বিমলা দেবী ঝাড়ফুঁক ও সনাতন চিকিৎসা পদ্ধতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং তাদের মধ্যে প্রায়ই কলহ লেগে থাকত। কয়েক বছর আগে বিয়ে হওয়া এই দম্পতির কোনো সন্তান ছিল না।

 

পুলিশ জানিয়েছে, অভিযুক্ত নারীর পূর্ণাঙ্গ জবানবন্দি, ফরেনসিক রিপোর্ট এবং চূড়ান্ত ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ জানা যাবে।

 

সূত্র: এনডিটিভি

 

ডিবিসি/এসডব্লিউএন

আরও পড়ুন