এক বৃদ্ধকে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট'-এর ভয় দেখিয়ে ১০ কোটি টাকারও বেশি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে পুনেতে এক সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সারকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোহান যাদব নামের ওই ইনফ্লুয়েন্সারের সমস্ত ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং আয়ের উৎস পুলিশ জব্দ করার পর তিনি আদালতে আত্মসমর্পণ করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে একদল প্রতারক নিজেদের সেন্ট্রাল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (সিবিআই) কর্মকর্তা পরিচয় দিয়ে এক বৃদ্ধের সঙ্গে যোগাযোগ করে। তারা ওই বৃদ্ধকে একটি মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর কথা বলে 'ডিজিটাল অ্যারেস্ট'-এর হুমকি দেয়। আইনি ব্যবস্থা এড়ানোর নাম করে প্রতারকরা তার কাছ থেকে বিভিন্ন ব্যাংক অ্যাকাউন্টে মোট ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা স্থানান্তর করিয়ে নেয়। প্রতারিত হয়েছেন বুঝতে পেরে ওই বৃদ্ধ পরে পুলিশের দ্বারস্থ হন।
ঘটনার তদন্তে নেমে এটিএম থেকে টাকা তোলার সূত্র ধরে পুলিশ প্রথমে তিনজনকে শনাক্ত ও গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন হর্ষদ সুভাষ ধানতোলে, সমর্থ সুরেশ দেশমুখ এবং অমর শিবাজি আত্তারগি। জিজ্ঞাসাবাদের সময় হর্ষদ পুলিশকে জানান যে, তিনি ব্যাংক থেকে তোলা টাকা পলাতক রোহান যাদবের হাতে তুলে দিয়েছিলেন। এই তথ্যের ভিত্তিতেই পুলিশ রোহানের খোঁজ শুরু করে এবং তার আর্থিক লেনদেনের পথ বন্ধ করে দেয়।
তদন্তে আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। ছত্রপতি সম্ভাজিনগরের আদি বাসিন্দা রোহান যাদব প্রতারণার ওই ১০ কোটি ৭৪ লাখ টাকা মোট ৫,৪৩৬টি ব্যাংক অ্যাকাউন্টে স্থানান্তর করেছিলেন। টেলিগ্রাম অ্যাপ এবং ভিডিও কলের মাধ্যমে হংকংয়ে বসে থাকা মূল চক্রীদের সঙ্গে তার নিয়মিত যোগাযোগ ছিল। পুলিশ জানিয়েছে, ক্রিপ্টোকারেন্সির মাধ্যমে হংকংয়ের চক্রীদের সঙ্গে আর্থিক লেনদেন চালাতেন রোহান। ভারতীয় মুদ্রাকে বিদেশি মুদ্রায় রূপান্তর করে বিদেশে পাচার করার জন্য তিনি বিপুল অঙ্কের কমিশন পেতেন।
জানা গেছে, সোশ্যাল মিডিয়া ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার পাশাপাশি রোহান সেলিব্রিটি ম্যানেজমেন্টের কাজও করতেন। বর্তমানে তার বিরুদ্ধে পুনে এবং পিম্পরি-চিঞ্চওয়াড়ে দুটি আলাদা মামলা দায়ের করা হয়েছে। সম্পূর্ণ চক্রটির সন্ধানে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এসভিএন