ভারতের ঝাড়খণ্ডের গোড্ডা জেলায় ‘গরু চুরির’ অভিযোগ তুলে পাপ্পু আনসারি (৪৫) নামের এক মুসলিম ব্যক্তিকে পিটিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। গত বুধবার (৮ জানুয়ারি) রাতে তাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। তবে নিহতের পরিবারের দাবি, চুরির ঘটনা নয়, বরং ধর্মীয় পরিচয় নিশ্চিত হওয়ার পরই তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করেছে একদল দুর্বৃত্ত।
নিহত পাপ্পু আনসারি ঝাড়খণ্ডের পাথরগামা থানার রানিপুর গ্রামের বাসিন্দা। ঘটনার দিন তিনি বিহারের বাকা জেলার শ্যাম বাজার গবাদি পশুর হাট থেকে বাড়ি ফিরছিলেন।
পাপ্পুর পরিবারের অভিযোগ, ফেরার পথে ২০ থেকে ২৫ জনের একটি উন্মত্ত জনতা জিজ্ঞাসাবাদের অজুহাতে তাদের গাড়ি আটকায়।
পরিস্থিতি বিপদজনক বুঝতে পেরে পাপ্পু গাড়ির চালক ও সঙ্গীদের পালিয়ে যেতে বলেন। অন্যরা পালাতে সক্ষম হলেও পাপ্পু জনতার হাতে ধরা পড়ে যান। পরদিন বৃহস্পতিবার সকালে মাটিহানি ও লাট্টা গ্রামের মধ্যবর্তী একটি মাঠে তার ক্ষতবিক্ষত মরদেহ পাওয়া যায়।
নিহতের বড় ভাই মোহাম্মদ নাসিম স্থানীয় গণমাধ্যমকে জানান, হামলাকারীরা প্রথমে পাপ্পুকে বিবস্ত্র করে তার ধর্মীয় পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হয়।
এরপর কুঠার, ফারসা, তীর ও লাঠি দিয়ে তার ওপর নির্মম নির্যাতন চালানো হয়। তিনি বলেন, ‘তারা নিশ্চিত হয় সে মুসলিম এবং এরপরই তাকে হত্যা করে। হামলাকারীরা বলছিল, ‘সে মুসলিম, তাকে মেরে ফেলো’।’
পরিবারের দাবি, পাপ্পু বৈধ কাগজপত্র নিয়েই গবাদি পশু পরিবহন করতেন। এর সঙ্গে চুরির কোনো সম্পর্ক নেই, বরং ধর্মীয় বিদ্বেষ থেকেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে।
এদিকে পুলিশ জানিয়েছে, নিহত পাপ্পুর বিরুদ্ধে আগে থেকেই অপরাধের রেকর্ড রয়েছে এবং তিনি একাধিকবার জেলে গিয়েছিলেন। তবে পরিবারের পক্ষ থেকে এই অভিযোগ অস্বীকার করা হয়েছে।
ঝাড়খণ্ডের স্বাস্থ্যমন্ত্রী ইরফান আনসারি এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি জানান, মুখ্যমন্ত্রী হেমন্ত সোরেন ঘটনাটি আমলে নিয়েছেন এবং মুখ্য সচিবকে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দিয়েছেন। নিহত পাপ্পু আনসারি স্ত্রী, এক ছেলে ও চার মেয়ে রেখে গেছেন।
সূত্র: ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস
ডিবিসি/এনএসএফ