বাংলাদেশ

ভারত থেকে আসছে ৭ হাজার টন ডিজেল

ডেস্ক প্রতিবেদন

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতায় আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে জাহাজ চলাচলের সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় দেশে জ্বালানি সরবরাহে নতুন চ্যালেঞ্জ তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সমুদ্রপথের বিকল্প হিসেবে ভারত থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে ডিজেল আমদানিতে বিশেষ জোর দিচ্ছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। এরই ধারাবাহিকতায় ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে নতুন করে ৭ হাজার টন ডিজেল আসার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

শনিবার (২৮ মার্চ) সন্ধ্যা থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে এই জ্বালানি তেল আসা শুরু হয়, যা পরবর্তী এক থেকে দুই দিনের মধ্যে পুরোপুরি পৌঁছে যাবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিপিসির চেয়ারম্যান মো. রেজানুর রহমান জানিয়েছেন, পাইপলাইনে সরবরাহ অব্যাহত থাকায় এবং বিকল্প উৎসগুলো সচল রাখায় বর্তমানে দেশে জ্বালানি সংকটের কোনো আশঙ্কা নেই।

 

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, দেশের কৃষি সেচ, পরিবহন ও বিদ্যুৎ উৎপাদনে ডিজেলের ওপর ব্যাপক নির্ভরশীলতার কারণে সরবরাহে সামান্য বিঘ্ন ঘটলে তা বড় প্রভাব ফেলতে পারে। চলতি মাসে ১৭টি জাহাজে ডিজেল আসার কথা থাকলেও বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে এখন পর্যন্ত ৯টি জাহাজ পৌঁছেছে এবং একটি পথে রয়েছে। বাকি ৭টি জাহাজের সময়সূচি অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ঘাটতি মেটাতে পাইপলাইনের ওপর নির্ভরতা বাড়ানো হয়েছে। চলতি মাসেই ভারত থেকে পাইপলাইনে প্রায় ১৫ হাজার টন ডিজেল এসেছে, যার মধ্যে গত ২৫ মার্চ সরবরাহ করা হয়েছিল ৫ হাজার টন।

 

কর্মকর্তারা বলছেন, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের ফলে জ্বালানি পরিবহন ব্যয় এবং জাহাজ সংকট বেড়ে যাওয়ায় নির্ধারিত সময়সূচি বজায় রাখা কঠিন হয়ে পড়েছে। এমন প্রেক্ষাপটে ১৩০ কিলোমিটার দীর্ঘ বাংলাদেশ-ভারত মৈত্রী পাইপলাইন একটি স্থিতিশীল বিকল্প হিসেবে কাজ করছে। এই পাইপলাইনের মাধ্যমে ভারতের নুমালিগড় রিফাইনারি থেকে ডিজেল সরাসরি দিনাজপুরের পার্বতীপুর ডিপোতে পৌঁছায়। 

 

সাধারণত প্রতিবারে ৫ হাজার টন করে ডিজেল আনা হলেও বর্তমানে মজুত সক্ষমতা ও দ্রুত খালাসের সমন্বয়ে এবার ৭ হাজার টন আনা সম্ভব হচ্ছে। সমুদ্রপথের তুলনায় এই পদ্ধতিতে প্রতি ব্যারেল ডিজেল পরিবহনে খরচ পড়ে প্রায় সাড়ে ৫ ডলার, যা তুলনামূলক সাশ্রয়ী।

 

জ্বালানি বিশ্লেষকদের মতে, বৈশ্বিক অস্থিরতার সময়ে এমন বিকল্প ব্যবস্থা অত্যন্ত কার্যকর। তবে এই সুবিধার পূর্ণ সুবিধা পেতে দীর্ঘমেয়াদী সংরক্ষণ সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি। 

 

উল্লেখ্য, দেশের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬৩ শতাংশই ডিজেল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে এই চাহিদার পরিমাণ নির্ধারণ করা হয়েছে প্রায় ৪৩ লাখ ৫০ হাজার টন, যার সিংহভাগই আমদানির মাধ্যমে মেটানো হয়। কৃষি মৌসুমের আগমুহূর্তে সরবরাহে স্থিতিশীলতা বজায় রাখাই এখন সংশ্লিষ্টদের প্রধান লক্ষ্য।

 

ডিবিসি/টিবিএ

আরও পড়ুন