চলতি টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে ভারত-পাকিস্তান মহারণের ভাগ্য নির্ধারণে বল এখন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কোর্টে। বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার প্রতিবাদে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচ বয়কটের যে ঘোষণা পাকিস্তান দিয়েছিল, তা থেকে তারা সরে আসবে কি না সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন প্রধানমন্ত্রী।
পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে পিসিবি চেয়ারম্যান মোহসিন নাকভি প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আইসিসির অনুরোধ ও বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে দিক-নির্দেশনা চাইবেন।
এর আগে রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) লাহোরের গাদ্দাফি স্টেডিয়ামে আইসিসির ডেপুটি চেয়ারম্যান ইমরান খাজার সঙ্গে পিসিবি প্রধান মোহসিন নাকভি এবং বিসিবি প্রতিনিধি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের প্রায় চার ঘণ্টাব্যাপী একটি রুদ্ধদ্বার বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে ইমরান খাজা ক্রিকেটের বৃহত্তর স্বার্থে পাকিস্তানকে তাদের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করে ১৫ ফেব্রুয়ারি কলম্বোতে ভারতের বিপক্ষে মাঠে নামার আহ্বান জানান।
তবে ভারতের বিপক্ষে খেলতে রাজি হওয়ার বিনিময়ে আইসিসির কাছে বেশ কিছু শর্ত জুড়ে দিয়েছে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড। বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ও ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, পিসিবির এসব শর্তের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশকে বিশ্বকাপ থেকে বাদ দেওয়ার কারণে বড় অংকের আর্থিক ক্ষতিপূরণ প্রদান, আসরে অংশ না নিলেও বাংলাদেশের জন্য অংশগ্রহণ ফি নিশ্চিত করা এবং ভবিষ্যতে কোনো আইসিসি ইভেন্টের আয়োজক হওয়ার অধিকার বাংলাদেশকে ফিরিয়ে দেওয়া।
এ ছাড়াও পিসিবি নিজেদের জন্য আইসিসির আয়ের অংশ বাড়ানো, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় ক্রিকেট সিরিজ পুনরায় চালু করা এবং আইসিসি ইভেন্টে ‘হাইব্রিড পদ্ধতি’ বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে।
আইসিসির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশকে আলাদা কোনো আর্থিক ক্ষতিপূরণ দেওয়ার সুযোগ না থাকলেও সংস্থাটির আয় থেকে বাংলাদেশের প্রাপ্য পূর্ণ অংশ নিশ্চিত করা হবে। আইসিসি প্রতিনিধি খাজা পাকিস্তান ও বাংলাদেশের উদ্বেগের প্রতি সমর্থন জানিয়ে বিষয়গুলো বোর্ড সভায় তোলার আশ্বাস দিলেও দ্রুততম সময়ে বয়কট প্রত্যাহারের ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিকে টুর্নামেন্ট শুরুর মাত্র কয়েক দিন আগে সরকারি নির্দেশে ম্যাচ বয়কটের সিদ্ধান্ত জানানোয় আইসিসি বিষয়টি নিয়ে আইনি ও প্রশাসনিক জটিলতার আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। আইসিসির সংবিধানে ‘ফোর্স মেজর’ বা অনিবার্য কারণ কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট শর্ত রয়েছে এবং পাকিস্তান তা যথাযথভাবে পালন করেছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে সংস্থাটি। ম্যাচটি না হলে আইসিসি বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হবে এবং পরিস্থিতি গুরুতর হলে পাকিস্তানের সদস্যপদ স্থগিত বা বাতিলের মতো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতাও আইসিসির হাতে রয়েছে।
যদিও পিসিবি অতীতের কিছু আইনি নজির টেনে নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে এবং তারা মনে করছে আইনি লড়াইয়ে তাদের জয় সম্ভব। এখন আগামী এক-দুই দিনের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপরই নির্ভর করছে বিশ্ব ক্রিকেটের সবচেয়ে বড় এই ম্যাচটি মাঠে গড়াবে কি না।
ডিবিসি/এএমটি