পশ্চিমবঙ্গে সরকার পরিবর্তনের পর প্রথমবার উত্তরবঙ্গ সফরে এসে সীমান্ত নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিলেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ। ভারত-বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সীমান্ত পরিদর্শনের পাশাপাশি, রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকার নিরাপত্তা এবং অনুপ্রবেশের মতো স্পর্শকাতর বিষয়গুলো নিয়ে প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের বৈঠক করেছেন তিনি। এই সফরের অন্যতম প্রধান কেন্দ্রবিন্দুতে ছিল কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ‘শিলিগুড়ি করিডর’ বা ‘চিকেনস নেক’।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) রাতে ভারতীয় বায়ুসেনার বিশেষ বিমানে বাগডোগরা বিমানবন্দরে পৌঁছান কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। বিমানবন্দরে তাঁকে স্বাগত জানান রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, মন্ত্রী নিশীথ প্রামাণিক, শঙ্কর ঘোষ এবং কেন্দ্রীয় মন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার। বিমানবন্দর থেকে সরাসরি বিএসএফের কদমতলা ক্যাম্পে গিয়ে তিনি রাত্রিবাস করেন।
শনিবার সকাল সাড়ে ১১টা নাগাদ শিলিগুড়ির জুম্মাগছে বিএসএফের ১৮তম ব্যাটালিয়নের সীমা চৌকিতে (বিওপি) পৌঁছান অমিত শাহ। এরপর ডাবগ্রাম-ফুলবাড়ি এলাকায় আন্তর্জাতিক সীমান্ত পরিদর্শন করেন। কাঁটাতারের বেড়া সংলগ্ন জামুড়িয়া ভিটা ও সন্ন্যাসীকাঁটার মতো এলাকা ঘুরে দেখার পাশাপাশি ওয়াচ টাওয়ার থেকেও সীমান্ত পর্যবেক্ষণ করেন তিনি। জুম্মাগছ বিওপি-তে বিএসএফ জওয়ানদের সঙ্গে প্রহরী সম্মেলনে 'চিকেনস নেক'-এর নিরাপত্তা জোরদার করার বিষয়ে মতবিনিময় ও বৃক্ষরোপণ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। এদিন ৭৭ কোটি টাকারও বেশি মূল্যের বিভিন্ন উন্নয়নমূলক প্রকল্পের শিলান্যাস ও উদ্বোধনও করেন তিনি। এ সময় তাঁর সঙ্গে ছিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিএসএফের মহাপরিচালক (ডিজি) প্রবীণ কুমার-সহ শীর্ষ কর্মকর্তারা।
সীমান্ত পরিদর্শন শেষে দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত উত্তরবঙ্গে রাজ্য সরকারের সচিবালয় 'উত্তরকন্যা'-য় পরপর তিনটি হাইভোল্টেজ বৈঠক করেন অমিত শাহ। মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী, বিএসএফের ডিজি প্রবীণ কুমার, রাজ্য পুলিশের ডিজি সিদ্ধিনাথ গুপ্তা, আইজি (উত্তরবঙ্গ) সুকেশ জৈন এবং সীমান্তবর্তী জেলাগুলোর পুলিশ ও প্রশাসনিক শীর্ষ কর্মকর্তা-সহ উত্তরবঙ্গের আট জেলার বিজেপির জনপ্রতিনিধিরা এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠকে কেন্দ্র-রাজ্য সমন্বয়, নতুন ফৌজদারি আইন কার্যকর করা এবং জন্ম-মৃত্যু নিবন্ধনের পাশাপাশি অবৈধ অনুপ্রবেশ, জাল পরিচয়পত্র, গবাদি পশু ও মানব পাচারসহ সীমান্তে নাশকতার মতো বিষয় রোধে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। প্রায় ৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ 'চিকেনস নেক' ভারতের বাকি অংশের সাথে উত্তর-পূর্ব ভারতের সংযোগস্থল হওয়ায় এর সুরক্ষায় আধুনিক নজরদারির ওপর বিশেষ জোর দেওয়া হয়। চীন, বাংলাদেশ, ভুটান এবং নেপাল সীমান্ত সংলগ্ন এই করিডরের নিরাপত্তাই ছিল আলোচনার অন্যতম মূল বিষয়।
উত্তরবঙ্গের কর্মসূচি শেষে শনিবার রাত ৮টা ৫৫ মিনিটে কলকাতায় পৌঁছান অমিত শাহ। শনিবার রাতে আলিপুরের সৌজন্য গেস্ট হাউসে তাঁর থাকার ব্যবস্থা করা হয়েছে। রবিবার সকাল ১১টায় সেখানে পশ্চিমবঙ্গের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেবেন তিনি। এরপর দুপুর ২টোয় আলিপুরের ন্যাশনাল লাইব্রেরিতে নবনির্মিত ‘ওয়ার্ড মিউজিয়াম’-এর উদ্বোধন এবং বিকেল ৪টেয় বিশ্ব বাংলা কনভেনশন সেন্টারে আমুল বেঙ্গল ডেইরির নতুন দই উৎপাদন কারখানার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে তাঁর যোগ দেওয়ার কথা রয়েছে।
ডিবিসি/পিআরএএন