২০০৭ সালে ভারত ভ্রমণের পর লোরি ডেনম্যান (৪২) নামে যুক্তরাজ্যের এক নারীর মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবী বাসা বাঁধার বিরল ঘটনা সামনে এসেছে। নিউরোসিস্টিকারকোসিস নামক এই রোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি দীর্ঘ সময় ধরে তীব্র মাথাব্যথা, খিঁচুনি ও মানসিক বিকারের মতো মারাত্মক উপসর্গের মধ্য দিয়ে গেছেন।
জানা যায়, ভারত ভ্রমণের তিন বছর পর ২০১০ সালে লোরি প্রথমবার তার শরীরে ফিতাকৃমির উপস্থিতি টের পান। চিকিৎসকদের ধারণা, ভারত সফরকালে দূষিত খাবারের মাধ্যমে শূকরের ফিতাকৃমির ডিম তার শরীরে প্রবেশ করেছিল। ২০১১ সালে তার প্রথম খিঁচুনি শুরু হয়। পরবর্তীতে ২০১৫ সালে হাসপাতালে স্ক্যান করার পর তার মস্তিষ্কে ৩৮টি পরজীবীর অস্তিত্ব ধরা পড়ে। পরজীবীগুলোর কারণে মস্তিষ্কে ফোলাভাব সৃষ্টি হওয়ায় তিনি স্মৃতিভ্রম, প্যানিক অ্যাটাক ও তীব্র মানসিক অবসাদে ভুগতে থাকেন এবং তাকে দীর্ঘ সময় নিউরোসাইকিয়াট্রিক হাসপাতালে কাটাতে হয়।
যুক্তরাজ্যের শীর্ষ সংক্রামক রোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, মস্তিষ্কে ফিতাকৃমির লার্ভা সংক্রমণের এমন ঘটনা অত্যন্ত বিরল। দীর্ঘ চিকিৎসার পর বর্তমানে লোরি সুস্থ আছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মস্তিষ্কের পরজীবীগুলো এখন জমাট বেঁধে নিষ্ক্রিয় (ক্যালসিফাইড) হয়ে গেছে। ২০১৭ সালের পর থেকে তার আর খিঁচুনি হয়নি, তবে তাকে আজীবন মৃগীরোগের ওষুধ সেবন করতে হবে। ভয়ংকর এই অভিজ্ঞতা কাটিয়ে উঠে তিনি এখন স্বাভাবিক জীবনে ফিরেছেন এবং এই বিরল রোগটি সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন।
সূত্র: বিবিসি
ডিবিসি/পিআরএএন