আন্তর্জাতিক, পাকিস্তান

ভারত যদি সঠিক পথে ফিরে না আসে, তবে তাদের সরাসরি জবাব দেওয়া হবে: শাহবাজ শরিফ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

২ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, পাকিস্তানের পানির প্রতিটি বিন্দু তাদের জন্য একটি ‘রেড লাইন’ বা চূড়ান্ত সীমারেখা। ভারত যদি সঠিক পথে ফিরে না আসে, তবে তাদের সরাসরি জবাব দেওয়া হবে। বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) স্বাধীনতা দিবসের প্রাক্কালে ইসলামাবাদে 'ইয়াদগার-ই-ফাতাহ' বা বিজয় স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এই কড়া বার্তা দেন। প্রধানমন্ত্রী জোর দিয়ে বলেন যে, পাকিস্তান শান্তি চায় ঠিকই, কিন্তু তাদের এই শান্তির আকাঙ্ক্ষাকে যেন কোনোভাবেই দুর্বলতা হিসেবে ভুল করা না হয়।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শাহবাজ শরিফ জানান, পুরো জাতি আজ এই বিজয় স্মৃতিস্তম্ভের ছায়ায় স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করছে। 'মারকা-ই-হক'-এ সাফল্যের জন্য তিনি চিফ অব আর্মি স্টাফ এবং চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল সৈয়দ আসিম মুনিরসহ দেশের সশস্ত্র বাহিনীকে গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি উল্লেখ করেন, এই বিজয়ের ফলে জাতির মাথা উঁচু হয়েছে এবং শত্রুরা চরম অপমানজনক পরাজয়ের সম্মুখীন হয়েছে। মাত্র আট মাসের মধ্যে অনন্য নকশার এই স্মৃতিস্তম্ভটির নির্মাণকাজ সম্পন্ন করার জন্য তিনি ফিল্ড মার্শাল ও তার দলকে অভিনন্দন জানান।


ভূ-রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, পাকিস্তান আজ এই অঞ্চলে স্থিতিশীলতার প্রতীক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং সরকার তরুণ প্রজন্মের জন্য নতুন সুযোগ তৈরি করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। নতুন কোনো বৈশ্বিক সংঘাত থেকে বিশ্বকে সুরক্ষিত রাখার বিষয়ে জোর দিয়ে তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করেছে ইসলামাবাদ। পাশাপাশি, পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে সময়োপযোগী যুদ্ধবিরতি কার্যকরের জন্য তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভূমিকার কথা উল্লেখ করেন এবং ভবিষ্যতে পাক-মার্কিন সম্পর্ক আরও দৃঢ় হওয়ার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। মক্কা যৌথ প্রতিরক্ষা চুক্তিতে তুরস্কের অন্তর্ভুক্তির কথা উল্লেখ করে তিনি এটিকে মধ্যপ্রাচ্যে শান্তির প্রতীক হিসেবে বর্ণনা করেন। এছাড়া ফিলিস্তিন ও কাশ্মীরের জনগণের প্রতি পাকিস্তানের জোরালো সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করে শাহবাজ শরিফ আফগান সরকারকে তাদের ভূখণ্ড সন্ত্রাসবাদের কাজে ব্যবহার করতে না দেওয়ার পরামর্শ দেন।


ইসলামাবাদে দেশপ্রেম ও জাতীয় উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে এই স্মৃতিস্তম্ভের উদ্বোধন করা হয়। প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি, প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ এবং ফিল্ড মার্শাল মুনির যৌথভাবে এর উদ্বোধন করেন। অনুষ্ঠানে সশস্ত্র বাহিনী, পুলিশ এবং বিভিন্ন উচ্চপদস্থ সামরিক, বেসামরিক কর্মকর্তা ও বিদেশি কূটনীতিকরা উপস্থিত ছিলেন।


প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মূলত ২০২৫ সালের মে মাসে ভারতের সাথে সংঘাতে পাকিস্তানের বিজয়ের স্মারক হিসেবে এই 'ইয়াদগার-ই-ফাতাহ' নির্মাণ করা হয়েছে। ওই বছরের ৬-৭ মে ভারত ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে পাকিস্তানের ওপর হামলা চালালে পাকিস্তান পূর্ণ শক্তি দিয়ে তার জবাব দেয় এবং নয়াদিল্লিকে পর্যুদস্ত করে। পরবর্তীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপে ১০ মে যুদ্ধ বন্ধ হয়। ওই সংঘাতে পাকিস্তান ফ্রান্সের তৈরি রাফালসহ ভারতের আটটি যুদ্ধবিমান এবং কয়েক ডজন ড্রোন ভূপাতিত করেছিল, যা পাকিস্তানের ভাবমূর্তিকে আরও সুদৃঢ় করেছে।


সূত্র: জিও নিউজ


ডিবিসি/এসভিএন

আরও পড়ুন