পাকিস্তান

ভারী বৃষ্টিতে ডুবল পাকিস্তানের ২ শহর, সরানো হচ্ছে বাসিন্দাদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৪ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

মঙ্গলবার (০১ সেপ্টেম্বর) ভোরের প্রবল বৃষ্টিতে ব্যাপক জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে পাকিস্তানের রাওয়ালপিন্ডি ও ইসলামাবাদে। টানা বর্ষণে তলিয়ে গেছে দুই শহরের নিম্নাঞ্চল, ব্যাহত হচ্ছে যান চলাচল। রাওয়ালপিন্ডিতে প্রায় ২০০ মিলিমিটার এবং ইসলামাবাদের ই-১১ সেক্টরে প্রায় ১৫০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। ভয়াবহ এই পরিস্থিতির কারণে রাওয়ালপিন্ডির সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করে সরকারি ছুটি দেওয়া হয়েছে।

রাওয়ালপিন্ডির ডেপুটি কমিশনার (ডিসি) ক্যাপ্টেন (অব.) নাদিম নাসির জানান, প্রবল বর্ষণের ফলে শহরের প্রধান নালা 'নালা লাই'-এর পানির স্তর বিপজ্জনকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় আশপাশের আবাসিক এলাকায় পানি ঢুকে পড়েছে। রাওয়ালপিন্ডি ক্যান্টনমেন্ট বোর্ডের প্রধান পানি প্রকৌশলী মোহাম্মদ আতিক জানান, এই বৃষ্টিপাত গত ১৬ বছরের রেকর্ড ভেঙেছে, এর আগে ২০১০ সালে শহরে এমন ভয়াবহ বৃষ্টিপাত দেখা গিয়েছিল। আবহাওয়া দপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, রাওয়ালপিন্ডির শামসাবাদে ২০১ মিলিমিটার এবং নিউ কাটারিয়ানে ১৮৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


বৃষ্টির কারণে শামসাবাদ, সাদিকাবাদ, জাবেদ কলোনি, ধোক ফরমান আলীসহ বিভিন্ন আবাসিক এলাকার বাড়িঘর ও রাস্তায় তিন ফুট পর্যন্ত পানি জমে গেছে। পরিস্থিতি মোকাবিলায় পাকিস্তান সেনাবাহিনী, রেসকিউ ১১২২, রেঞ্জার্স এবং অন্যান্য সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতায় (হাই অ্যালার্ট) রাখা হয়েছে। প্রশাসন নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছে এবং উদ্ধারকাজে জরুরি দল মোতায়েন করেছে।


অন্যদিকে, ইসলামাবাদের ডেপুটি কমিশনার ইরফান নওয়াজ মেমন জানিয়েছেন, অল্প সময়ের তীব্র বৃষ্টিতে ড্রেন উপচে শহরের বিভিন্ন রাস্তা এবং বাণিজ্যিক ভবনের বেজমেন্টে পানি ঢুকে পড়েছে, ফলে ব্যবসায়ীরা আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। শহরের ডি-১২/২ এলাকায় একটি প্রতিরক্ষামূলক দেয়াল ধসে পড়লেও কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। এক্সপ্রেসওয়েসহ মূল সড়কগুলোতে যানজট নিরসনে ট্রাফিক পুলিশ কাজ করছে এবং চালকদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


জরুরি উদ্ধারকারী দল রেসকিউ ১১২২ জানিয়েছে, ভারী বৃষ্টির পর পরিচালিত বিভিন্ন উদ্ধার অভিযানে এখন পর্যন্ত রহিমাবাদ ব্রিজ, কুরি রোডসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে অন্তত ৬০ জনকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং বেশ কিছু জায়গায় উদ্ধারকাজ এখনো চলমান। তবে সর্বশেষ পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নালা লাই-এর পানির স্তর দ্রুত কমতে শুরু করায় সার্বিক পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হচ্ছে বলে জানিয়েছে প্রশাসন।


সূত্র: দি এক্সপ্রেস ট্রিবিউন


ডিবিসি/এসভিএন
 

আরও পড়ুন