ফুটবল

ভিএআর-এর সর্বোচ্চ সুবিধা পাচ্ছে মেক্সিকো, দ্বিতীয় সর্বোচ্চ আর্জেন্টিনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

১ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

বিশ্বকাপে কিছু দল ফাউলের সিদ্ধান্তে অন্যদের তুলনায় বেশি সুবিধা পাচ্ছে এমন কথা ফুটবল ভক্তদের মধ্যে বিরাজ করছে। আর্জেন্টিনার বিপক্ষে মিসরের ৩-২ গোলে হারের ম্যাচে ভিডিও অ্যাসিস্ট্যান্ট রেফারি বা ভিএআর (VAR) রিভিউয়ের পর রেফারি মিসরের একটি গোল বাতিল করলে এই প্রশ্নটি নতুন করে সামনে আসে।

ভিএআর হলো এমন একটি প্রযুক্তি যার মাধ্যমে রেফারিরা ম্যাচের ফুটেজ পুনরায় দেখতে পারেন এবং কন্ট্রোল রুমে থাকা অন্যান্য ম্যাচ অফিশিয়ালদের সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন। ওই গোল বাতিলের বিষয়ে রেফারির যুক্তি ছিল, শট নেওয়ার ঠিক আগেই একটি ফাউল করা হয়েছিল। 

 

নর্থইস্টার্ন নেটএসআই (NetSI) স্পোর্ট রিসার্চ গ্রুপের পরিচালক ব্রেনান ক্লেইনের মতে, এর উত্তর বেশ জটিল। কারণ, শুধু পরিসংখ্যান দিয়ে কোনো রেফারি কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে কাজ করছেন কি না, তা নিশ্চিতভাবে প্রমাণ করা সম্ভব নয়। তিনি জানান, কোনো সিদ্ধান্ত খালি চোখে ভুল মনে হলেও পরিসংখ্যানে শুধু ফাউলের সময়, খেলোয়াড়ের নাম এবং মাঠের সুনির্দিষ্ট স্থানাঙ্ক উল্লেখ থাকে।

 

তবে ক্লেইন জানান, সরাসরি প্রমাণ করা না গেলেও এই বিষয়টি যাচাই করার কিছু উপায় রয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, গবেষকরা ভিএআর ব্যবহারের বিস্তারিত তথ্য সংগ্রহ করেন। যেমন ম্যাচে কতবার এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে এবং কতবার কোনো দলের পক্ষে বা বিপক্ষে সিদ্ধান্ত গেছে। এর মাধ্যমে কিছু উল্লেখযোগ্য প্রবণতা লক্ষ্য করা যায়। ক্লেইন জানান, চলতি বছর বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত অনুষ্ঠিত ৯৭টি ম্যাচে মোট ৩৫ বার ভিএআর প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছে। যেখানে ২০২২ সালে এই সংখ্যা ছিল ২৬ এবং ভিএআর চালুর বছর, অর্থাৎ ২০১৮ সালের বিশ্বকাপে এর সংখ্যা ছিল ২২।

 

নেটএসআই স্পোর্টের তৈরি করা একটি চার্টে দেখা যায়, এবারের টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত ভিএআর থেকে সবচেয়ে বেশি সুবিধা পেয়েছে আর্জেন্টিনা এবং মেক্সিকো। রিভিউয়ের পর এই দুই দলের পক্ষেই ফাউল-সংক্রান্ত চারটি করে সিদ্ধান্ত গেছে। অন্যদিকে, ভিএআর-এর কারণে সবচেয়ে বেশি নেতিবাচক পরিণতির শিকার হয়েছে প্যারাগুয়ে এবং ক্রোয়েশিয়া। রিভিউয়ের পর তাদের বিপক্ষে তিনটি করে সিদ্ধান্ত গেছে।

 

এক নজরে এটিকে কিছু দলের প্রতি পক্ষপাতিত্ব মনে হলেও ক্লেইন জোর দিয়ে বলেন যে, তথ্য-উপাত্ত নিশ্চিতভাবে তেমন কিছু প্রমাণ করে না। এটি কেবল ভিএআর কীভাবে কাজ করেছে, তারই একটি চিত্র তুলে ধরে। তাঁর মতে, আর্জেন্টিনা বা মেক্সিকো এই তালিকার শীর্ষে থাকার মূল কারণ হলো, ভিএআর-এর দৃষ্টিতে যে ফাউলগুলো ধরা পড়েছে, মাঠের রেফারিরা শুরুতে সেগুলো ধরতে ব্যর্থ হয়েছিলেন। এটি মূলত রেফারির ভুল বা সিদ্ধান্ত নিতে না পারার বিষয়টিই নির্দেশ করে। তবে ক্লেইন এও স্বীকার করেন যে, এই পরিসংখ্যান রেফারির আর্জেন্টিনার প্রতি পক্ষপাতিত্ব না থাকার বিষয়টিকেও পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত করতে পারছে না।
 

সূত্র: নর্থ ইস্টার্ন গ্লোবাল নিউজ

 

ডিবিসি/আরএসএল

আরও পড়ুন