বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে ব্রুনো গিমারায়েসকে দিয়ে পেনাল্টি নেওয়ানোর সিদ্ধান্তের বিষয়ে ব্যাখ্যা দিয়েছেন ব্রাজিলের প্রধান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। গিমারায়েসের নেওয়া সেই পেনাল্টিটি নরওয়ের গোলরক্ষক অরিয়ান নিয়ল্যান্ড ঠেকিয়ে দেন, যা ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ম্যাচ শেষে আনচেলত্তি জানান, মূলত পরিসংখ্যানের ভিত্তিতেই পেনাল্টি নেওয়ার এই সিদ্ধান্তটি নেওয়া হয়েছিল। গত এক বছর ধরে নিজেদের খেলোয়াড় এবং প্রতিপক্ষের তথ্য বিশ্লেষণ করে ব্রাজিল দল দেখেছে, পেনাল্টি নেওয়ার ক্ষেত্রে দলে সবার চেয়ে এগিয়ে আছেন নেইমার। তার পরেই ক্রমান্বয়ে রয়েছেন ইগর থিয়াগো, রাফিনিয়া, ব্রুনো গিমারায়েস এবং মার্তিনেল্লি। আনচেলত্তি বলেন, পেনাল্টি পাওয়ার ওই মুহূর্তে মাঠে থাকা খেলোয়াড়দের মধ্যে ব্রুনো গিমারায়েসই ছিলেন সেরা বিকল্প, তাই তাকেই এই দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল।
কোচের উল্লেখ করা শীর্ষ তিন পেনাল্টি টেকারের কেউই তখন মাঠে ছিলেন না। নেইমারকে শুরুতে বেঞ্চে রাখা হয়েছিল, যিনি পরে দ্বিতীয়ার্ধে বদলি হিসেবে নেমে যোগ করা সময়ে পাওয়া একটি পেনাল্টি থেকে গোল করেন। ইগর থিয়াগোকে কৌশলগত কারণে একাদশে রাখা হয়নি এবং গ্রুপ পর্বে হাইতির বিপক্ষে চোট পাওয়ায় খেলতে পারেননি রাফিনিয়া। ফলে গিমারায়েসকেই পেনাল্টি নিতে হয়। তবে মাঝারি উচ্চতায় নেওয়া তার শটটি সহজেই রুখে দেন নরওয়ের গোলরক্ষক। যদিও গত ইউরোপিয়ান মৌসুমে নিউক্যাসল ইউনাইটেডের হয়ে নেওয়া দুটি পেনাল্টির দুটিতেই গোল করেছিলেন গিমারায়েস, কিন্তু তিনি দলের নিয়মিত পেনাল্টি টেকার ছিলেন না।
এদিকে, মাঠে থাকা সত্ত্বেও ভিনিসিয়ুস জুনিয়রকে দিয়ে কেন পেনাল্টি নেওয়ানো হয়নি, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পরিসংখ্যান বলছে, ২০২৫-২৬ মৌসুমে রিয়াল মাদ্রিদের হয়ে সাতটি পেনাল্টি নিয়ে পাঁচটিতেই গোল করেছিলেন ভিনিসিয়ুস। এছাড়া ব্রাজিলের জার্সিতেও ২০২৩ সালে গিনির বিপক্ষে একটি প্রীতি ম্যাচে পেনাল্টি থেকে গোল করার অভিজ্ঞতা তার ছিল।
ডিবিসি/এফএইচআর