যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসন সুবিধা নিশ্চিত করতে অভিনব প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ার অভিযোগে ১১ জন ভারতীয় নাগরিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে মূলত 'ইউ-ভিসা' পাওয়ার উদ্দেশ্যে বিভিন্ন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সশস্ত্র ডাকাতির নাটক সাজানোর এবং ভিসা জালিয়াতির ষড়যন্ত্রের অভিযোগ এনেছে মার্কিন প্রশাসন।
ম্যাসাচুসেটস অঙ্গরাজ্যের বোস্টনের ফেডারেল তদন্তকারীদের তথ্য অনুযায়ী, এ চক্রটি অত্যন্ত সুকৌশলে পুরো কর্মকাণ্ডটি পরিচালনা করত। যুক্তরাষ্ট্রে ‘ইউ-ভিসা’ নামের একটি বিশেষ ক্যাটাগরির ভিসা রয়েছে, যা গুরুতর অপরাধের শিকার হওয়া ব্যক্তিদের দেওয়া হয়, শর্ত থাকে যে তাদের আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে তদন্তে সহায়তা করতে হবে।
এ আইনি সুবিধাটি কাজে লাগাতেই অভিযুক্তরা নিজেদের অপরাধের শিকার হিসেবে উপস্থাপন করার পরিকল্পনা করেন। তদন্তকারী সংস্থাগুলো জানিয়েছে, তারা এ পর্যন্ত অভিযুক্তদের সাজানো অন্তত ছয়টি ডাকাতির ঘটনার প্রমাণ পেয়েছে।
সাজানো ডাকাতির প্রক্রিয়াটি ছিল পুরোপুরি পূর্বপরিকল্পিত। পরিকল্পনা অনুযায়ী চক্রের একজন সদস্য ভুয়া ডাকাত হিসেবে দোকানে প্রবেশ করে আগ্নেয়াস্ত্রের মতো দেখতে কোনো বস্তু প্রদর্শন করতেন এবং ক্যাশ কাউন্টার থেকে নগদ অর্থ নিয়ে পালিয়ে যেতেন। ঘটনাটি যেন সত্যিকারের অপরাধ বলে মনে হয়, তা নিশ্চিত করতে তারা সিসিটিভি ক্যামেরায় দৃশ্যগুলো ধারণ করার ব্যবস্থা করতেন। এমনকি 'ডাকাত' যেন নির্বিঘ্নে পালিয়ে যেতে পারে এবং পুলিশের কাছে ঘটনাটি আরও বেশি বিশ্বাসযোগ্য হয়, সেজন্য দোকানে থাকা অভিযুক্তরা তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশকে না জানিয়ে ইচ্ছাকৃতভাবে অন্তত পাঁচ মিনিট বা তারও বেশি সময় অপেক্ষা করার পর খবর দিতেন।
এ ঘটনায় অভিযুক্তদের মধ্যে জিতেন্দ্রকুমার প্যাটেল, মহেশকুমার প্যাটেল, সঞ্জয়কুমার প্যাটেল, অমিতাবাহেন প্যাটেল, সঙ্গীতাবেন প্যাটেল এবং মিতুল প্যাটেলকে ম্যাসাচুসেটসে গ্রেপ্তার করা হয়। বোস্টনের ফেডারেল আদালতে প্রাথমিক শুনানির পর তারা মুক্তি পেয়েছেন।
অন্যদিকে রমেশভাই প্যাটেল, রোনাককুমার প্যাটেল, সোনাল প্যাটেল এবং মিনকেশ প্যাটেলকে কেনটাকি, মিসৌরি ও ওহাইও অঙ্গরাজ্য থেকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, যাদেরকে পরবর্তীতে বোস্টনের আদালতেই হাজির করা হবে। মার্কিন আইনে ভিসা জালিয়াতির এ ষড়যন্ত্র প্রমাণিত হলে অভিযুক্তদের সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড, তিন বছরের নজরদারিতে মুক্তি (সুপারভাইজড রিলিজ) এবং সর্বোচ্চ আড়াই লাখ মার্কিন ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
ডিবিসি/এএমটি