ভিয়েতনামের মধ্যাঞ্চলে প্রবল বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২০শে নভেম্বর) দেশটির সরকারের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত সপ্তাহান্ত থেকে শুরু হওয়া এই দুর্যোগে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১৬ জনে দাঁড়িয়েছে। প্লাবিত শহর ও গ্রামগুলোতে পানির উচ্চতা ক্রমাগত বাড়ছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত তিন দিনে মধ্য ভিয়েতনামের বেশ কিছু এলাকায় ১,৫০০ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। কফি উৎপাদনের জন্য বিখ্যাত এবং পর্যটকদের কাছে জনপ্রিয় এই অঞ্চলটি প্রায়ই ঝড় ও বন্যার কবলে পড়ে।
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্যমতে, বন্যা ও ভূমিধসে এখনো পাঁচজন নিখোঁজ রয়েছেন। পানির নিচে তলিয়ে গেছে ৪৩ হাজারেরও বেশি ঘরবাড়ি এবং ১০ হাজার হেক্টরেরও বেশি ফসলি জমি। ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, কফি খেতগুলো প্লাবিত হওয়ায় চলমান কফি সংগ্রহের কাজ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে।
এছাড়া বিদ্যুৎ গ্রিড ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ৫ লাখ ৫৩ হাজারের বেশি পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান এখনো বিদ্যুৎহীন অবস্থায় রয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, বন্যায় আটকে পড়া মানুষযাদের মধ্যে শিশুরাও রয়েছে বাড়ির ছাদে আশ্রয় নিয়ে বাঁচার আকুতি জানাচ্ছে।
সোশ্যাল মিডিয়াতেও সাহায্যের আবেদন ছড়িয়ে পড়েছে। খান হোয়া প্রদেশের এক বাসিন্দা ফেসবুকে একটি ছবি পোস্ট করে লিখেছেন, কোনো উদ্ধারকারী দল থাকলে দয়া করে সাহায্য করুন! বাচ্চা ও বয়স্কদের নিয়ে গতকাল রাত ১০টা থেকে আমরা টিনের ছাদে বৃষ্টির মধ্যে বসে আছি।
খান হোয়া, গিয়া লাই এবং ডাক লাক প্রদেশের বিস্তীর্ণ আবাসিক এলাকা গভীর পানির নিচে তলিয়ে গেছে। খান হোয়ায় আটকে পড়া নাগরিকদের উদ্ধারে নৌবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে বলে ভিয়েতনাম নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে। অনেক এলাকায় বন্যার পানি রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে।
তথ্যসূত্র রয়টার্স
ডিবিসি/এমইউএ