আন্তর্জাতিক

ভুয়া সনদে ৬৬১ কোটি টাকার বিমানের যন্ত্রাংশ বিক্রি, লন্ডনে সাবেক ডিজে'র কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ডিবিসি নিউজ

৩ ঘন্টা আগে
Facebook NewswhatsappInstagram NewsGoogle NewsYoutube

এওজি টেকনিকস নামে প্রতিষ্ঠান খুলে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের (প্রায় ৬৬১ কোটি ৬৬ লক্ষ টাকা) বৈশ্বিক প্রতারণা করেছেন হোসে আলেসান্দ্রো জামোরা ইরালা।

লন্ডনের বাইরে নিজের গ্যারেজ থেকে ৪০ মিলিয়ন পাউন্ডের বৈশ্বিক প্রতারণার মাধ্যমে বিমানের নকল যন্ত্রাংশ বিক্রির দায়ে এ সাবেক টেকনো ডিজে-কে কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।


এওজি টেকনিকসের সরবরাহ করা এসব ইঞ্জিনের যন্ত্রাংশ প্রতারণা ধরা পড়ার আগেই আমেরিকান এয়ারলাইন্স, ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স, ডেল্টা এবং রায়ানএয়ারের মতো বিশ্বখ্যাত প্রতিষ্ঠানের বিমানে যুক্ত হয়েছিল। এর ফলে নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোকে নিরাপত্তা সতর্কতা জারি করতে হয় এবং বিশ্বজুড়ে অসংখ্য বিমান উড্ডয়ন স্থগিত করা হয়।


জালিয়াতির দায় স্বীকার করার পর সোমবার সাউথওয়ার্ক ক্রাউন কোর্টে প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক হোসে আলেসান্দ্রো জামোরা ইরালাকে ৪ বছর ৮ মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়।


যুক্তরাজ্যের সিরিয়াস ফ্রড অফিস (এসএফও)-এর তদন্তে দেখা গেছে, ৩৮ বছর বয়সী জামোরা ইরালা সিল, বোল্ট এবং ওয়াশারসহ বিভিন্ন বিমানের ইঞ্জিন যন্ত্রাংশ কিনে তা বিশ্বজুড়ে এয়ারলাইন্স ও সরবরাহকারীদের কাছে বিক্রি করতেন। যন্ত্রাংশগুলোর সাথে তিনি এর উড্ডয়নযোগ্যতার ভুয়া সনদ যুক্ত করে দিতেন।


২০১৯ থেকে ২০২৩ সালের জুলাই মাসের মধ্যে সারের একটি হোম অফিস থেকে এওজি টেকনিকস ৬.৯ মিলিয়ন পাউন্ড মূল্যের ৬০,০০০-এরও বেশি যন্ত্রাংশ বিক্রি করেছে। এওজি-র বিক্রি করা বেশিরভাগ যন্ত্রাংশই সিএফএম৫৬ ইঞ্জিনে ব্যবহারের জন্য ছিল, যা বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত এয়ারবাস এবং বোয়িং বিমানে থাকে।


এসএফও জানিয়েছে, জামোরা ইরালা তার বাড়ির কম্পিউটার ব্যবহার করে আসল সনদপত্র জাল করতেন এবং নির্মাতাদের ভুয়া ডেলিভারি রেকর্ড তৈরি করতেন। এমনকি তিনি ভুয়া কর্মীও বানিয়েছিলেন, যাদের নামে অস্তিত্বহীন কোয়ালিটি ম্যানেজারদের স্বাক্ষর করা ইমেইল ও নথি পাঠানো হতো।


২০২৩ সালের আগস্টে এই প্রতারণার অবসান ঘটে, যখন একটি এয়ারলাইন্স এওজি-র একটি যন্ত্রাংশের সত্যতা যাচাই করার জন্য মূল নির্মাতার সাথে যোগাযোগ করে। যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র এবং ইইউ এভিয়েশন এজেন্সিগুলোর নিরাপত্তা সতর্কতা জারির পর বিশ্বজুড়ে অনেক বিমান গ্রাউন্ডেড করা হয়। ধারণা করা হয়, এর ফলে এয়ারলাইন্সগুলোর ৩৯.৩ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি ক্ষতি হয়েছে।


ইথিওপিয়ান এয়ারলাইন্স সরাসরি জামোরা ইরালার কাছ থেকে ১.১ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি মূল্যের যন্ত্রাংশ কিনেছিল। আমেরিকান এয়ারলাইন্স সরাসরি এওজি-র কাছ থেকে না কিনলেও পরবর্তীতে দেখতে পায় যে তাদের ২৮টি ইঞ্জিন এই ভুয়া সনদের যন্ত্রাংশ দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যার ফলে তাদের ২১ মিলিয়ন পাউন্ডেরও বেশি ক্ষতি হয়। রায়ানএয়ার জানিয়েছে, তারা তৃতীয় পক্ষের মাধ্যমে আসা দুটি বিমানে নকল যন্ত্রাংশ পেয়েছে।


ভেনেজুয়েলার বংশোদ্ভূত জামোরা ইরালা ২০১১ সাল থেকে এভিয়েশন শিল্পে কাজ করছিলেন। ২০১৫ সালে তিনি এওজি-র একমাত্র পরিচালক হিসেবে প্রতিষ্ঠানটি শুরু করেন। এর আগে তিনি একজন টেকনো ডিজে হিসেবে কাজ করতেন।


এসএফও-র অপারেশন ডিরেক্টর এমা লুক্সটন বলেন, "জামোরা এমনভাবে বিশ্বজুড়ে জননিরাপত্তাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছিলেন, যা বিশ্বাস করা কঠিন। আমি গর্বিত যে আমরা আমাদের দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে তাকে দ্রুত বিচারের আওতায় এনেছি এবং এই অপরাধী চক্রকে প্রতিহত করেছি।"


সূত্র: দ্য গার্ডিয়ান


ডিবিসি/এসএফএল

আরও পড়ুন