ভেনেজুয়েলার ওপর ট্রাম্প প্রশাসনের আরোপিত কঠোর নিষেধাজ্ঞার অংশ হিসেবে ক্যারিবীয় সাগরে আবারও অভিযান চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড নিশ্চিত করেছে, তারা ভেনেজুয়েলা উপকূলে ‘ভেরোনিকা’ নামের একটি অপরিশোধিত তেলবাহী ট্যাংকার জব্দ করেছে।
মার্কিন সামরিক কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্যমতে, ‘ভেরোনিকা’ নামের ওই ট্যাংকারটি নৌযান সংক্রান্ত দলিলাদি অনুযায়ী গায়ানার পতাকাবাহী বলে ধারণা করা হচ্ছে। বৃহস্পতিবার ভোর রাতে যুক্তরাষ্ট্রের মেরিন ও নৌসেনারা একটি বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে জাহাজটির নিয়ন্ত্রণ নেয়। মার্কিন সাউদার্ন কমান্ড তাদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই অভিযানটি ইউএস কোস্ট গার্ড, হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগ এবং মার্কিন বিচার বিভাগের প্রত্যক্ষ সহযোগিতায় পরিচালিত হয়েছে।
বিবৃতির সঙ্গে প্রকাশিত একটি ঝাপসা সাদা-কালো ভিডিও ফুটেজে অভিযানের নাটকীয় দৃশ্য দেখা গেছে। ফুটেজে দেখা যায়, একটি সামরিক হেলিকপ্টার থেকে রশি বেয়ে সেনারা জাহাজটির ডেকে নামছেন। সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, এই অভিযানে যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ (সিভিএন-৭৮) ব্যবহার করা হয়েছে। সেখান থেকে পাঠানো বাহিনী কোনো ধরনের প্রতিরোধ বা সংঘাত ছাড়াই মোটর ট্যাংকার ভেরোনিকা-কে সফলভাবে আটক করতে সক্ষম হয়।
মার্কিন কর্তৃপক্ষের দাবি, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কর্তৃক ঘোষিত ক্যারিবীয় অঞ্চলে নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজ চলাচলের যে বিধি নিষেধ রয়েছে, ‘ভেরোনিকা’ তা অমান্য করছিলো। এই অভিযানটিকে তারা ‘অপারেশন সাউদার্ন স্পিয়ার’ এর কার্যকারিতার একটি বড় প্রমাণ হিসেবে উল্লেখ করেছে।
অভিযানটি ঠিক সমুদ্রের কোন অক্ষাংশে বা দ্রাঘিমাংশে সংঘটিত হয়েছে, তা পেন্টাগনের পক্ষ থেকে স্পষ্ট করা হয়নি। তবে মেরিন ট্রাফিক ডট কম-এর ডেটা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, জব্দকৃত জাহাজটির সর্বশেষ অবস্থান ১২ দিন আগে ভেনেজুয়েলার উপকূলের খুব কাছাকাছি ছিল।
উল্লেখ্য, গত ৩ জানুয়ারি ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে কারাকাস থেকে অপহরণ করে যুক্তরাষ্ট্রে নিয়ে যাওয়ার পর থেকেই ভেনেজুয়েলার তেল বাণিজ্যের বিরুদ্ধে অত্যন্ত কঠোর অবস্থান নিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। মাদুরোকে আটকের পর থেকে বিদেশি পতাকাবাহী তেল ট্যাংকার জব্দের এটি ষষ্ঠ ঘটনা।
এর মাত্র কয়েক সপ্তাহ আগেই ক্যারিবীয় সাগরে ত্রিনিদাদের কাছে ‘ওলিনা’ নামের আরেকটি জাহাজে একই ধরনের অভিযান চালিয়েছিল সাউদার্ন কমান্ড। পঞ্চম সেই অভিযানের ক্ষেত্রেও ‘ইউএসএস জেরাল্ড আর ফোর্ড’ থেকে বাহিনী মোতায়েন করা হয়েছিল।
তথ্যসূত্র: দ্য গার্ডিয়ান
ডিবিসি/এএমটি